Advertisement
E-Paper

সভাতেই দলের দ্বন্দ্ব এল প্রকাশ্যে, সভা থামিয়ে ধমক অভিষেকের

বক্তব্য থামিয়ে কড়া ভাষায় ধমক দিলেন তিনি। তাতেই দমলেন বিক্ষোভকারীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০১৮ ০১:৫৯
মঞ্চ থেকে বিক্ষোভকারীদের ধমক দিচ্ছেন অভিষেক। ছবি: শুভ্র মিত্র।

মঞ্চ থেকে বিক্ষোভকারীদের ধমক দিচ্ছেন অভিষেক। ছবি: শুভ্র মিত্র।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চেও প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্যের বক্তৃতা চলাকালীন তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজন প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন। অভিষেকের বক্তৃতা শুরু হওয়ার পরেও তার রেশ চলল। বক্তব্য থামিয়ে কড়া ভাষায় ধমক দিলেন তিনি। তাতেই দমলেন বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার বিষ্ণুপুরের রাধানগরে তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক অভিষেকের সভা ছিল। সেখানে এমন ঘটনা দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন দলেরই অনেকে। গোটা বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে তৃণমূলের জেলা নেতাদের অনেককেই আক্ষেপ করতে শোনা যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আজকের দিনটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু সভার শুরুতেই এই ঘটনায় তাল কাটল।”

এ দিন অভিষেক মঞ্চে আসার কিছু ক্ষণ পরেই ঘটনাটি ঘটে। সেই সময়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য। বদলা নয়, বদলই তৃণমূলের পন্থা— এই কথা বলে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন তিনি। বিতর্কের সূত্রপাত সেখান থেকেই। তুষারের দাবি, তিনি বলতে চেয়েছেন তৃণমূলের ছেলেরাই ভয়ে ঘরছাড়া সিপিএমের পরাজিত প্রার্থীকে ফিরিয়ে এনেছিল। এটাই রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা।

কিন্তু তুষার-বিরোধী শ্যামগোষ্ঠীর লোকজনের দাবি, বিধায়ক কটাক্ষ করেছেন শ্যামকেই।

আরও পড়ুন: ‘প্রকৃত কংগ্রেস’ হলে তৃণমূলে আসুন: অভিষেক

তুষারকান্তির কথা শুনে মঞ্চের সামনে বসে থাকা একদল তৃণমূল কর্মী উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। হইচই বেধে যায় সভাস্থলে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন বিষ্ণুপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অনেকেই শ্রীকান্তকে চেনেন তুষার-বিরোধী গোষ্ঠী বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান শ্যাম মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে।

তিনি বক্তৃতা শুরু করার পরেও বিক্ষোভকারীদের চিৎকার বন্ধ হয়নি। তাতেই মেজাজ হারান যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক। শ্রীকান্তদের লক্ষ করে বলেন, “এই ভাই, তোমার সমস্যাটা কী? তোমাকে বসতে বলা হচ্ছে, চুপ করে বসো। সমস্যা হলে বেরিয়ে যাও সভাস্থল থেকে।” তার পরেও শ্রীকান্তরা না থামায় অভিষেক বলেন, “কানে যাচ্ছে না? একটা কথা দশবার বলতে হবে? সমস্যা থাকলে বেরিয়ে যাও।”

অভিষেকের চড়া সুরে সভাস্থল শান্ত হয়। যদিও বিধায়কের বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটেনি। ঘটনা হল, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুরে ঝড়ু ঘোষের বিরুদ্ধে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হন শ্যাম মুখোপাধ্যায়। জিতে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। সভা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ঘটনাটি নিয়ে শ্রীকান্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “ঝড়ু ঘোষকে নিয়ে মোটেও বলেননি বিধায়ক। তিনি বলতে চেয়েছেন শ্যামদা হেরে গিয়ে পাঁচ মাস কর্মীদের নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে ওঁর লোকজন ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা এই মিথ্যা কথারই প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

গোটা বিষয়টি নিয়ে শ্যাম মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিধায়কের বক্তব্যে দলের কর্মীরা আঘাত পেয়েছেন। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।” তুষারকান্তির অবশ্য দাবি, “আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি ঝড়ু ঘোষের নাম করে বলেছি। সবাই জানেন, সিপিএমের ওই বিধায়ককে শ্যাম হারিয়েছিলেন।” তিনি যুক্ত করেন, “আমার বক্তব্য ছিল, হেরে যাওয়ার পরে গ্রামে থাকার সাহস জোটাতে না পেরে চলে গিয়েছিলেন ওই প্রাক্তন বিধায়ক। তৃণমূলের ছেলেরাই তাঁকে গ্রামে ফিরিয়ে এনেছিল।” তাঁর অভিযোগ, এ দিনের গোটা ঘটনার পিছনে দলেরই কোনও নেতার হাত রয়েছেন। তুষারকান্তি বলেন, ‘‘এর আগেও দলীয় সভামঞ্চে আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা হয়েছে। আমি চাই দল গোটা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।”

জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে ভালো চোখে নেওয়া হয়নি বলেই জানাচ্ছেন দলের নেতাদের একাংশ। খোদ অভিষেকই সভামঞ্চ থেকে এই ঘটনার জন্য দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। সভার শেষে জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খান বলেন, “কারা এমন ঘটনা ঘটালো তা দলীয় ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

TMC Abhishek Banerjee অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy