Advertisement
E-Paper

বৈঠকে না রাজ্যের, সুর চড়ল মোর্চারও

দার্জিলিঙে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র-রাজ্য-জিটিএ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, ১৯ জুন দিল্লিতে ওই বৈঠক করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে জানিয়েছে, পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক সম্ভব নয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৭ ০৪:২৩
রোশন গিরি। —ফাইল চিত্র।

রোশন গিরি। —ফাইল চিত্র।

পাহাড় নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের কোনও প্রয়াস হলে তার বিরোধিতা করবে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতৃত্ব যখন দেখা করতে গিয়েছেন, তখনই রাজ্যের তরফে এই মনোভাবের কথা কেন্দ্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি আবার জানিয়েছেন, এখন তাঁদের একটিই দাবি— গোর্খাল্যান্ড। যা কোনও মতেই রাজ্য মানবে না, সেটাও ইতিমধ্যে পরিষ্কার।

দার্জিলিঙে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র-রাজ্য-জিটিএ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, ১৯ জুন দিল্লিতে ওই বৈঠক করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে জানিয়েছে, পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক সম্ভব নয়। নবান্নের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, ‘‘জিটিএ-র বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদ ফুরোচ্ছে জুনেই। এখন ত্রিপাক্ষিক আলোচনার কোনও জায়গা নেই।’’

মোর্চা নেতৃত্বের অভিযোগ, চুক্তি মেনে জিটিএ-র হাতে সব ক্ষমতা তুলে দেয়নি রাজ্য। ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বৈঠক ডাকার জন্য কেন্দ্রের উপরে চাপ বাড়াচ্ছিলেন তাঁরা। মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরোজ থাপা এ দিনও বিকেলে দার্জিলিঙে সাংবাদিক সম্মেলন করে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি তোলেন। কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লিতে রাজনাথ সিংহের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে রোশন যা বলেছেন, তার পরে আর তাঁদের দিক থেকেও ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের বিশেষ চাহিদা আছে বলে মনে হচ্ছে না। রোশন বলেছেন, ‘‘আর জিটিএ নয়। আমাদের দাবি গোর্খাল্যান্ড। এনাফ ইজ এনাফ!’’ দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়ার সঙ্গে রাজনাথের কাছে দরবার করার পরে রোশনের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাহাড়ের পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

রোশনেরা সুর চড়ালেও দার্জিলিঙে শান্তি ফেরানোর প্রশ্নে আপসে যেতে রাজি নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। রাজ্য সরকার চার কোম্পানি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী চেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হবে।’’

সংসদীয় মন্ত্রী অনন্তকুমারও এ দিনই কলকাতায় বলেছেন, ‘‘দার্জিলিঙে প্রথমে শান্তি আসুক। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা হোক।’’ তবে যে সংযম, সহনশীলতা ও সাবধানতার সঙ্গে পাহাড়ের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে পারেননি বলেও তাঁর অভিযোগ।

মোর্চা Darjeeling Morcha GTA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy