Advertisement
০৫ মার্চ ২০২৪

সালিশিসভায় শাবলের বাড়ি, প্রাণ গেল তৃণমূল সমর্থকের

পারিবারিক বিবাদ নিয়ে ডাকা সালিশিসভায় লেগেছিল শাবলের ঘা। হাসপাতালে মারা গেলেন তৃণমূল সমর্থক প্রৌঢ়। ঘটনায় অভিযুক্তেরা তৃণমূল কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। ঘটনাটা স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের সামনেই ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। হুগলির গুড়াপের উত্তর জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার দাস (৫০) নামে ওই প্রৌঢ় বুধবার বিকেলে শাবলের আঘাতে জখম হন। বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তাঁর পরিবার গ্রামেরই বাসিন্দা সুকুমার শী (বুড়ো), বাবলু ঘোষ, নিরাপদ ঘোষ, অবিনাশ কোটাল এবং মহাদেব রুইদাসের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে।

প্রকাশ পাল
গুড়াপ শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:০৮
Share: Save:

পারিবারিক বিবাদ নিয়ে ডাকা সালিশিসভায় লেগেছিল শাবলের ঘা। হাসপাতালে মারা গেলেন তৃণমূল সমর্থক প্রৌঢ়। ঘটনায় অভিযুক্তেরা তৃণমূল কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। ঘটনাটা স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের সামনেই ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।

হুগলির গুড়াপের উত্তর জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার দাস (৫০) নামে ওই প্রৌঢ় বুধবার বিকেলে শাবলের আঘাতে জখম হন। বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তাঁর পরিবার গ্রামেরই বাসিন্দা সুকুমার শী (বুড়ো), বাবলু ঘোষ, নিরাপদ ঘোষ, অবিনাশ কোটাল এবং মহাদেব রুইদাসের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে। অভিযুক্তরা এলাকায় তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্রের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্তেরা পলাতক। এ দিন বিকেলে সুকুমারবাবুর মৃত্যুর কথা জানাজানি হতেই গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ বাহিনী গ্রামে যায়। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছেন। হুগলি জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি দিলীপ যাদবও বলেন, “গুড়াপের ঘটনার কথা শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি। বিস্তারিত ভাবে না জেনে কিছু বলব না।” অসীমাদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) তথাগত বসু বলেন, “নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমারবাবু এবং তাঁর ভাইয়েরা একই বাড়িতে থাকেন। সকলে চাষাবাদ করেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ উঠোন ঝাঁট দেওয়া নিয়ে সুকুমারবাবুর স্ত্রী বাসন্তীদেবীর সঙ্গে তাঁর এক দেওরের পুত্রবধূ তনুশ্রীর বচসা বাধে। সেখানে সুকুমারবাবুও হাজির হন। এর পরে তনুশ্রীর সঙ্গে সুকুমারবাবুর বচসা বাধে। অভিযোগ, সেই সময়ে সুকুমারবাবু তনুশ্রীকে চড় মারেন। তনুশ্রী বাড়ির বাইরে বেরিয়ে চিৎকার করে সে কথা পড়শিদের জানান। তবে বিষয়টি তখনকার মতো মিটে যায়।

ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ সুকুমারবাবু গ্রামের একটি চায়ের দোকানের পাশের চাতালে বসেছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, আলোচনায় বসার কথা বলে অন্যতম অভিযুক্ত বাবলু ঘোষ মোটরবাইকে করে সুকুমারবাবুকে সেখান থেকে বুড়ো শী-র বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত পাঁচ জন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গুড়বাড়ি ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অজিত দাস-সহ কয়েক জন। সভাচলাকালীন আচমকা বচসা বাধে। হঠাৎই বুড়ো বাড়ি থেকে শাবল নিয়ে এসে সুকুমারবাবুর মাথায় বসিয়ে দেন বলে অভিযোগ। ভেস্তে যায় সভা। সেখানে উপস্থিত লোকজনই সুকুমারবাবুকে ধনেখালি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর মাথায় সেলাই পড়ে। ওই রাতে বাড়ি ফিরে এলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে সুকুমারবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি করতে থাকেন। ফের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর।

এ দিন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ টহল দিচ্ছে। অভিযুক্তদের পরিবারের লোকজন কথা বলতে চাননি। বহু চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি উপ-প্রধান অজিত দাসের সঙ্গে। তবে বিধায়ক অসীমা পাত্রের বক্তব্য, “ঘটনাটা রাজনৈতিক নয়। একেবারেই গ্রাম্য বিবাদ।” বিধায়কের দাবি, উপপ্রধান অজিতবাবু ওই সালিশিসভায় হাজির ছিলেন না।

বাসন্তীদেবী বলেন, “বাড়ির সামান্য ঘটনা যে এত দূর গড়াবে ভাবতেই পারিনি!”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE