Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৩ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

কলকাতা হাইকোর্ট

ছুটির ক্ষতি পোষাতে কি এ বার বাড়তি কাজ, আজ বারের সভা

বিতর্কের ঝড়ের মুখে পড়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়েছে। সেখানে স্থির হবে, সমালোচনার ক্ষতে প্রলেপ দিতে ওঁরা আগের অবস্থান থেকে সরে আসবেন, নাকি গা ভাসাব

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৯ মার্চ ২০১৫ ০৩:৩৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

বিতর্কের ঝড়ের মুখে পড়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়েছে। সেখানে স্থির হবে, সমালোচনার ক্ষতে প্রলেপ দিতে ওঁরা আগের অবস্থান থেকে সরে আসবেন, নাকি গা ভাসাবেন ছুটির স্রোতেই।

ওঁরা, মানে কলকাতা হাইকোর্টের ‘ছুটিপন্থী’ আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ উপেক্ষা করে যাঁরা হোলির দিনে কাজ বন্ধ রেখে বিচার প্রক্রিয়া স্তব্ধ করে করেখেছিলেন। তার জেরে ওঁরা নিজেদের পেশার বড় অংশের সমালোচনার মুখে তো পড়েইছেন, প্রশ্ন উঠে গিয়েছে পেশার প্রতি ওঁদের দায়বদ্ধতা নিয়েও। এ বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ‘কঠোর’ মনোভাবের বার্তা আইনজীবী সংগঠনের (বার অ্যাসোসিয়েশন) কাছে পৌঁছে দিয়েছেন খোদ অ্যাডভোকেট জেনারেল।

এমনই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আজ, সোমবার ওই জরুরি বৈঠক ডেকেছে। প্রসঙ্গত, অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাড়া দিয়েই শুক্রবার ‘হোলির ছুটি’ পালন করেছেন হাইকোর্টের ৮৫% আইনজীবী। আজকের সভায় কী হতে পারে?

Advertisement

অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের খবর, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের প্রস্তাব মতো পুজোর ছুটি বা গ্রীষ্মাবকাশের একটি দিন কাজ করে শুক্রবারের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে সভায় আলোচনা হবে। সদস্যেরা সায় দিলে ভোটাভুটি করে স্থির হবে, কোন অবকাশের কোন দিনে তাঁরা পরিবর্ত কাজ করবেন। সিদ্ধান্তটি প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে প্রধান বিচারপতির কাছে।

ঘটনা হল, শুক্রবার হাইকোর্টে ‘হোলির ছুটি’ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশন যে চিঠি দিয়েছিল, তার জবাবে প্রধান বিচারপতি পত্রপাঠ জানিয়ে দিয়েছিলেন, অবকাশের ছুটি থেকে একটা দিন ছেঁটে আইনজীবীরা যদি কাজ করেন, তা হলে প্রস্তাবটি তিনি মানতে পারেন। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশন তখন তাতে কর্ণপাত করেনি। “এখন কেন একই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ?” প্রশ্ন তুলেছেন অনেক আইনজীবী। এঁদের আক্ষেপ, প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব গোড়াতেই মানা হলে ঘরে-বাইরে এমন সমালোচনা সইতে হতো না।

বস্তুত আজকের সভায় অ্যাসোসিয়েশন-কর্তাদের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তার অবশ্য দাবি, “আগের সিদ্ধান্ত সবর্সম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছিল। সোমবার যা সিদ্ধান্ত হবে, তা-ও হবে সর্বসম্মত।”

তবে হাইকোর্টে ছুটি-কর্মবিরতির রমরমা নিয়ে আইনজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের অনেকেও বীতশ্রদ্ধ। ওঁদের পর্যবেক্ষণ, ইদানীং আইনজীবীদের একাংশ নিজেদের সিদ্ধান্ত জবরদস্তি আদালতের উপরে চাপিয়ে দিতে চাইছেন। নিম্ন আদালতের একাধিক ঘটনায় এটা ইতিমধ্যে পরিস্ফূট। এ বার তা হাইকোর্টে দেখা যাচ্ছে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

বস্তুত শুক্রবারের ঘটনায় সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখছে আইনজ্ঞদের একাংশ। হোলির দিনে হাইকোর্ট নির্দিষ্ট সময়ে খুলেছিল। বিচারপতিরা যথারীতি এজলাসে গিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু ওঁদের সামনে সওয়াল করার মতো বিশেষ কাউকে পাওয়া যায়নি। ৮৫ ভাগ আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় সে দিন হাইকোর্ট কার্যত অচল হয়ে যায়।

স্বভাবতই প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ গোপন রাখতে পারেননি। “বিচারপ্রার্থীদের অখুশি করে কী পাবেন?” এজলাসে উপস্থিত অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্রকে উদ্দেশ করে সে দিন প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রধান বিচারপতি চেল্লুর। এ-ও বলেছিলেন, “বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থ দেখাই আইনজীবীদের কাজ। তাঁরা নিজের পেশার প্রতি সুবিচার করছেন না। মক্কেল যেখানে লক্ষ্মী, সেখানে কৌঁসুলি দায় এড়ান কী করে?”

আদালত-সূত্রের খবর: প্রধান বিচারপতি চেল্লুর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী হাইকোর্টে বছরে অন্তত ২১০ দিন কাজ করতে হবে। সেই মতো বছরের গোড়াতেই হাইকোর্টের কর্মপঞ্জি তৈরি হয়েছে, এবং তার কোনও নড়চড় হবে না। প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত সমর্থন করে হাইকোর্টের এক প্রবীণ আইনজীবী রবিবার বলেন, “শুক্রবার যা হল, তা আইনজীবীদের পেশার পক্ষে অশনি সঙ্কেত। আদালতগুলো এ বার ২০০২-এ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশটি কার্যকর করতে শুরু করলে ছুটিপন্থী কৌঁসুলিরা ফাঁপরে পড়ে যাবেন।” কেন?

২০০২-এর ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি দোরাইস্বামী রাজু, বিচারপতি এসএন ভারিয়াভা ও বিচারপতি জিএম ধর্মাধিকারীর বেঞ্চ পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে, ‘আইনজীবীরা ধর্মঘট করলে কোনও অবস্থায় শুনানি পিছোবে না। কৌঁসুলিদের অনুপস্থিতিতে আদালতে জমা পড়া কাগজপত্র দেখেই সংশ্লিষ্ট মামলা সম্পর্কে বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের ‘হোলি পর্ব’ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আইনজ্ঞেরা বলছেন, শুক্রবার এখানে যা হয়েছে, হরে-দরে তা ধর্মঘটেরই সামিল। “প্রধান বিচারপতি ছুটি মঞ্জুর করলেন না। অথচ আইনজীবীরা একযোগে ছুটি নিলেন! কর্মবিরতি বা ধর্মঘট ছাড়া একে কী বলব?’’ মন্তব্য এক জনের। ওঁদের মতে, এমন সব ক্ষেত্রে আইনজীবী ছাড়াই মামলাটির নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিজের বিবেচনাক্রমে বিচারপতিদের নির্দেশ দিতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বাস্তবিকই পেশা-সঙ্কটে পড়বেন। এমতাবস্থায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় বার অ্যাসোসিয়েশনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন সদস্যদের কেউ কেউ। তাঁদের যুক্তি: আগেই জানা ছিল, হোলিতে রাজ্য সরকারের ছুটি। তা হলে অ্যাসোসিয়েশন কেন ২০১৫-র কর্মপঞ্জি তৈরির আগে হাইকোর্ট-কর্তৃপক্ষকে তাদের ইচ্ছার কথা জানায়নি? এক আইনজীবীর খেদ, “আমাদের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশে গিয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভাল ছেলে-মেয়েরা এই পেশায় আর আসবে কি না, সন্দেহ।” শুক্রবারের কর্মহীন হাইকোর্টে বসে একই সংশয় প্রকাশ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিও।

এই মুহূর্তে তাই ভাবমূর্তি উদ্ধারের প্রশ্নটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই তাগিদ কোনও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তের জন্ম দেবে কি না, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে আজকের সভায়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement