×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১২ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

সাবেক পুজোর মধ্যে দিয়েই শুভ শক্তির আবাহন

আর্যভট্ট খান
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০০:৪৬

কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায় পুজোর প্রায় দু’মাস আগে থেকেই। আর ক’দিন বাকি? কিন্তু সত্যি পুজো শুরু কবে? কেউ বলেন সপ্তমী। কেউ বলেন ষষ্ঠী বা পঞ্চমী। উৎসাহীদের কথায়, বহু পুজোর উদ্বোধন তো তৃতীয়াতেই হয়ে যায়। তবে পুজো শুরু হতে ষষ্ঠীর অপেক্ষা কেন?

তৃতীয়াই হোক বা পঞ্চমী, এ বছর উদ্যোক্তাদের কপালে ভাঁজ একটু বেশিই। কারণ, ক্যালেন্ডারে পুজো বেশ কিছুটা এগিয়ে এসেছে। সঙ্গে পঞ্জিকা মতে পুজো মাত্র তিন দিনেই শেষ। তাই বেশির ভাগ উদ্যোক্তার আশঙ্কা, এ বার সপ্তমী-অষ্টমী নয়। দর্শনার্থীদের ঢল নামবে আগে থেকেই। ফলে পঞ্চমীর দিন মণ্ডপে পেরেকের ঠুকঠাক চলবে না।

এ কথা মাথায় রেখেই দমদম দক্ষিণপাড়া মোড়ের যুব পরিষদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। পুজোকর্তারা জানাচ্ছেন, এ বছর তাঁদের থিম মুখ ও মুখোশের দ্বন্দ্ব। মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুখ দেখাই যায় না। অথচ সমাজে মুখোশ নয়, মুখের দরকার। পূর্ব বড়িশার শীতলাতলা কিশোর সঙ্ঘের মণ্ডপ এ বার সাজবে ‘সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ ভাবনায়। তাই মণ্ডপসজ্জায় দেবদেবীর তুলনায় বেশি প্রাধান্য পাবে মানুষ।

Advertisement

গাঙ্গুলিবাগানের বেলতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবে দেখা যাবে কৃষ্ণনগরের মাটির প্রতিমা। উদ্যোক্তারা জানালেন, মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ। সাবেক প্রতিমাকে ফিরিয়ে আনতে চলেছে সরশুনা মেন রোডে বাসুদেবপুরের পল্লি উন্নয়ন সমিতি। তাঁদের দাবি, থিমপুজোর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সাবেক পুজো। তাই সাবেকিয়ানার সৌন্দর্যকেই ফুটিয়ে তোলা হবে।

ডাময়ন্ড হারবার রোডের নূতন সঙ্ঘের মণ্ডপে মূর্ত হবে আলপনার অলঙ্করণ। নকশার টানে ফুটবে কমললতা, পদ্মলতা। পুজোকর্তারা জানালেন, আলপনার সৌন্দর্যে মণ্ডপ এমন ভাবে সাজানো হবে যে মনে হবে অশুভ শক্তি দূরে চলে যাচ্ছে। নন্দীবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপ ঘিরে থাকবে মেলা।

খিদিরপুরের ৭৪ পল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের এ বার প্রাক্ হীরকজয়ন্তী বর্ষ। উদ্যোক্তারা জানালেন, মণ্ডপে তুলে ধরা হবে সত্যের জয়গাথা। পুজোকর্তাদের মতে সত্যই হল মানব জীবনের ঐশ্বর্য। তাই মণ্ডপে সত্যের প্রতীক হিসাবে থাকবে ন’টি সিংহ, ঐশ্বর্যের পরিচায়ক হিসাবে হস্তিমূর্তির উপস্থিতিও থাকবে।

পূর্বাচল মেন রোডের পূর্বাচল শক্তি সঙ্ঘের থিম কল্পবৃক্ষে মাতৃশক্তি। পূর্ণকুম্ভের উপরে জেগে উঠে নিজেকে বিস্তৃত করেছে কল্পবৃক্ষ। এই কল্পবৃক্ষকে আবৃত করে থাকবেন দশভূজা। তিনিই সমস্ত শুভ ও মঙ্গলের উৎস। দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপ পরিবেশ সচেতনতার পাঠ শেখাবে। পুজোকর্তারা জানালেন, অকারণে পাখি মারার প্রতিবাদে মণ্ডপ জুড়ে থাকবে প্রচুর পাখির মডেল। প্রায় একই রকম ভাবনা পূর্ব কলকাতার হোসেনপুর সর্বজনীনে। তাদের থিম ‘শিল্পী পাখি’। তালপাতা, তালের আঁটি, নারকেল দড়ি, প্লাই, মাদুর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ময়ূর, সারস, বাজপাখি, কাকাতুয়া, টুনটুনি-সহ বিভিন্ন পাখির মডেল। বাবুই পাখির বাসার মধ্যে হবে প্রতিমার অধিষ্ঠান। পাতা দিয়ে তৈরি হবে প্রতিমার বেশভূষা, কাঠ ও সুতো দিয়ে তৈরি হবে গয়না।

বেলেঘাটা মিত্র সঙ্ঘের ৫৪তম বর্ষের পুজোয় দুর্গা থাকবেন একশোটি পদ্মের মাঝখানে। মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে অকাল বোধনের প্রেক্ষপটে। থাকছে কৃত্রিম দিঘি ও পদ্মবন। পুজোর দিনগুলিতে এখানে শোনা যাবে চণ্ডীপাঠ ও আগমনী গান। বরাহনগর ছাত্র সম্মিলনীর পুজোর এ বছর হীরক জয়ন্তী। তাদের থিম ‘অরুণিমার ছটায়, স্বপ্ন আসছে নৌকায়’। এই মণ্ডপে এলে মনে হবে সূর্যের আলোর তেজ আর দুর্গার শক্তি যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

বেলেঘাটা ৩৩ নম্বর পল্লিবাসীবৃন্দের থিম কল্পনা। কৈশোর থেকে শুরু করে যৌবন সব বয়সের কল্পনাকে ছুঁয়ে যাবে এই মণ্ডপ। ছোটবেলার ফেরিওয়ালার ডাক, চাবিওয়ালার ডাক বা যৌবনের গিটার বাজানো লোকটাকে ঘিরে দর্শনার্থীরা পৌঁছে যাবেন কল্পরাজ্যে।

Advertisement