Advertisement
১৮ জুন ২০২৪

বর্জ্যের পাহাড় সামাল দিতে পুর-উদ্যোগ

কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, ২০০০ সালে মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ধাপা।—ফাইল চিত্র।

ধাপা।—ফাইল চিত্র।

অনুপ চট্টোপাধ্যায় ও কুন্তক চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩০
Share: Save:

কলকাতা তো বটেই, লাগোয়া শহরতলি এমনকী জেলার বড় শহরেও ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই রব। নিত্য দিন তৈরি হওয়া হাজার হাজার টন বর্জ্য কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পুরকর্তারা। সেই বিপদ থেকে মুক্তি পেতে বর্জ্য পৃথকীকরণের পথে হাঁটতে চাইছে কলকাতা পুর প্রশাসন এবং রাজ্য নগরোন্নয়ন দফতর। এ ব্যাপারে বিদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে প্রাথমিক কথাও হয়েছে। পচনশীল বর্জ্য বিদ্যুৎ ও সার তৈরিতে কাজে লাগানো হবে বলে দফতর সূত্রের খবর।

কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, ২০০০ সালে মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘আমরা শহরের সাফাইয়ের কাজ ভাল ভাবেই করছি। কম্প্যাক্টর মেশিন বসিয়ে ‘জঞ্জাল নগরী’র তকমাও ঘুচিয়ে দিয়েছে তৃণমূল বোর্ড। কিন্তু জঞ্জাল থেকে বিদ্যুৎ তৈরির কাজটা হয়ে ওঠেনি।’’

নগরোন্নয়ন দফতরের এক কর্তা জানান, একটি বিদেশি সংস্থার কর্তারা কলকাতায় এসে মন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তাঁদের যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভাগাড়ে ফেলা বর্জ্যকে পচনশীল এবং পচনশীল নয় এই দু’ভাগে ভাগ করবে। মন্ত্রী ওই সংস্থার কর্তাদের আগে ধাপা এবং হাওড়ার ভাগাড় দেখে আসতে বলেছেন। তার পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা হবে। আগামী মাসে ওই বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় এসে ধাপা এবং অন্য শহরের ভাগাড় পরিদর্শন করবে।

পুর কর্তৃপক্ষ সূত্রের খবর, ‘গ্রিন সিটি’ নিয়ে সরকার তৎপর হলেও বর্জ্য সামাল দিতে নাকাল হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই দৈনিক ৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য জমে। এর জন্য নতুন কোনও ভাগা়ড় তৈরির জমি মিলছে না। দমদম, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল, হাওড়া এলাকার পুরসভাগুলিরও একই দশা।

নগরোন্নয়ন দফতরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে পরিবেশ দফতর এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। পর্ষদের এক কর্তা বলছেন, ‘‘অবশেষে বর্জ্য পৃথকীকরণের গুরুত্ব কর্তারা বুঝছেন, এটাই অনেক।’’ তিনি জানান, একে তো ভাগাড়ের জমির আকাল। তার উপরে ভাগাড়ে নিয়মিত আগুন লেগে দূষণ বাড়ছে। তাই পৃথকীকরণ খুব জরুরি। তাঁর মতে, বিদ্যুৎ তৈরির থেকে বরং বর্জ্য পচিয়ে সার তৈরিতে জোর দেওয়া উচিত। কারণ, ১০০ কেজি জঞ্জাল ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হলে ৪০ কিলোগ্রাম ছাই তৈরি হবে। তাকে সেই ভাগাড়েই ফেলতে হবে। তিনি আরও জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎ তৈরি করলে তার দাম কিছুটা বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। কিন্তু জৈব সার তৈরি করলে তা বাজারে বিক্রি করা যাবে, পশ্চিমবঙ্গের চাষিদেরও সুলভে সার দেওয়া সম্ভব। ওই কর্তা বলছেন, ‘‘কংক্রিট বর্জ্য থেকে সস্তা দরের টাইল্‌সও তৈরি করা যায়।’’

পরিবেশ-বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর কথায়, শুধু জৈব এবং অজৈব বর্জ্যকে আলাদা করলেই চলবে না। অ-পচনশীল বর্জ্যকেও ভাগ করা উচিত। না হলে দূষণ ঘটতেই পারে। ওই বর্জ্যকেও পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বাতিল অংশ বা বর্জ্যকে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সেগুলিতে সিসা, ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত ধাতু থাকে। সেগুলি পুনর্ব্যবহারের পথ রয়েছে। তা থেকে দামি ধাতু নিষ্কাশনও সম্ভব। প্লাস্টিক বর্জ্যকেও রাস্তা সারাইয়ের কাজে ফের ব্যবহার করা যেতে পারে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE