Advertisement
E-Paper

ছুটির মেজাজ বদলাক মেট্রো, দাবি

বিশ্বের তামাম বড় শহর পারে। পারে দিল্লিও। কিন্তু কলকাতা পারে না। রবিবার ছুটির দিনেও দিল্লি প্রায় অন্য দিনের মতোই ট্রেন চালায়। লন্ডন, প্যারিস, মিউনিখ, নিউ ইয়র্ক-সহ সব শহরের টিউব রেলের রুটিনও এক। কিন্তু কলকাতা মেট্রো রবিবার যে পরিষেবা দেয়, তেমন নজির কোথাও নেই। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত আধ ঘণ্টা অন্তর ট্রেন চালানোর যে সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রো নিয়েছে, তাতে কার্যত বাদুড় ঝোলা ভিড়ে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:০৫

বিশ্বের তামাম বড় শহর পারে। পারে দিল্লিও। কিন্তু কলকাতা পারে না।

রবিবার ছুটির দিনেও দিল্লি প্রায় অন্য দিনের মতোই ট্রেন চালায়। লন্ডন, প্যারিস, মিউনিখ, নিউ ইয়র্ক-সহ সব শহরের টিউব রেলের রুটিনও এক। কিন্তু কলকাতা মেট্রো রবিবার যে পরিষেবা দেয়, তেমন নজির কোথাও নেই। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত আধ ঘণ্টা অন্তর ট্রেন চালানোর যে সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রো নিয়েছে, তাতে কার্যত বাদুড় ঝোলা ভিড়ে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সেখানেই উঠে আসছে দিল্লির সঙ্গে কলকাতা মেট্রোর তুলনা। যাত্রীদের প্রশ্ন, দিল্লি যদি রবিবারেও স্বাভাবিক পরিষেবা দিতে পারে তবে কলকাতা কেন পারবে না? কেন সকাল থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত শহরের মূল জীবনরেখাই কার্যত আধাখেঁচড়া ভাবে চলবে?

রবিবার সকালে একটি ধর্মীয় মিছিলে কলকাতায় তুমুল যানজট তৈরি হয়েছিল। শীতের ছুটির দিনে সেই সময়েই স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের নিয়ে দমদমে আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা সমর বন্দ্যোপাধ্যায়। সমরবাবু বলেন, “প্রায় ২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরে যে ট্রেনটি এল, তাতে ওঠার মতো অবস্থা ছিল না। পরের ট্রেনটি এল আরও আধ ঘণ্টা পরে। তাতেও একই রকম ভিড়। কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে ওই ভিড়ে ঠাসা ট্রেনটিতে উঠে পড়লাম। ভিড়ের চাপে এক সময়ে ছোট মেয়েটা কাঁদতে শুরু করল। কী করে যে দমদম পৌঁছলাম, তা বলে বোঝাতে পারব না!” সমরবাবুর স্ত্রী অঞ্জনাদেবী বলেন, “এ ভাবে ট্রেন চালানোর মানে কী! তবে কি রবিবারে ২টোর আগে শহরের মানুষ যাতায়াত করবে না!”

সমরবাবুদের মতো একই প্রশ্ন অন্য মেট্রোযাত্রীদেরও। ফি রবিবারে গড়িয়া থেকে চাঁদনি চকে অফিস করতে আসেন একটি শপিং মলের কর্মী বিশ্বজিৎ দাস। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “আগে রবিবার মেট্রো সকাল বেলায় পরিষেবা বন্ধ রাখত। পরে সংসদীয় কমিটির ধমক খেয়ে রবিবার সকালে ট্রেন চালু করা হয়। কিন্তু এ কেমন পরিষেবা! এ তো যেন চাঁদ সদাগরের বাঁ হাতে মনসা পুজো করা! শুধু উপর তলাকে দেখানোর জন্য এ ধরনের পরিষেবা না চালিয়ে বরং তা বন্ধ করে দেওয়াই ভাল।” প্রতি রবিবার মেট্রোয় চড়েন, এমন এক যাত্রীর কথায়, “সাধারণ ভাবেই রবিবার মেট্রোতে যা ভিড় হয়, তাতে সকাল থেকে দিব্যি ১৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানো যায়। এর উপরে পুজো বা অন্য উৎসবের মরসুমে ভিড় উপচে পড়ে। রাস্তায় গোলমাল হলে তো আর কথাই নেই।”

যাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, যখন মেট্রো কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে ট্রেন চালানো শুরু করলেন, তখনই তো প্রতিটি স্টেশনের পুরো পরিকাঠামো (বিদ্যুৎ, কর্মী ইত্যাদির খরচ) চালু করার খরচ বেড়ে গেল। তা হলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে কেন মেট্রো আয় বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছে না? দমদমের বাসিন্দা গৌতম বিশ্বাস বলেন, “এখন তো মেট্রোয় টিকিটের দামও অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। তা হলে কেন স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চালিয়ে মেট্রো বাড়তি আয়ের পথে যাবে না?”

কিন্তু চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কেন এই সিদ্ধান্ত? মেট্রো কর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, মেট্রোয় রেক ও চালকের সংখ্যাও কম রয়েছে। অনেক কাল নতুন নিয়োগও হয়নি। রবিবারে এই সমস্যা প্রকট হয়। তাই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের একাংশের এই বক্তব্যকে অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন মেট্রোর অনেক কর্তাই। তাঁদের বক্তব্য, “এ সব নিতান্তই কুযুক্তি। কারণ এখন মেট্রোয় অনেকগুলি নতুন রেক এসেছে। নতুন চালক নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও কি দায়িত্বে থাকা কর্তারা রেল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন?”

এই প্রশ্নের কোনও জবাব মেলেনি। তবে এ ব্যাপারে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রবিবার কতক্ষণ অন্তর ট্রেন চালানো হবে সেটা রেল বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করা হয়। তাই রবিবার কম সময়ের ব্যবধানে মেট্রো চালানো যে দাবি যাত্রীরা তুলেছেন, তা রেল বোর্ডকে জানানো ছাড়া, এখান থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র বলেন, “যাত্রীদের এই দাবি দিল্লিকে জানানো হবে।”

অর্থাৎ, বিশ্বের সর্বত্র যা-ই হোক না কেন, বাঙালির রবিবারের মাংস-ভাত খেয়ে দুপুরে ঘুমের সংস্কৃতির সঙ্গে দিব্যি খাপ খাইয়ে নিয়েছে কলকাতা মেট্রো। আপাতত তার কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।

metro sunday schedule service
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy