পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
শুভেন্দু তখন বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ২ লাখ দিয়েছে।” সেই মন্তব্যের জবাবে মমতা বলেন, “কী ২ লাখ দেখাচ্ছেন? উত্তরবঙ্গে যখন মানুষ মারা গিয়েছিল, তখন টাকা দেননি। রাজ্যপাল যা বলে গিয়েছেন সব সত্যি। বাংলা দখলের কথা ভাববেন না। দিল্লি নিয়েই নাজেহাল অবস্থা। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কী অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তাই আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো আছেন, জিরোই থাকবেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। কিন্তু জেনে রাখুন, অনেক সিট হারাবেন।”
মমতা বলেন, “বাংলার উন্নয়ন নিয়ে আমরা গর্বিত। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বলছেন, ১৫ বছর অপেক্ষা করেছি। আমরা দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কাজ দিয়েছি। ৩০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আমাদের টাকা তুলে আমাদের ফেরত হয়। আইন যেমন আছে, আইন প্রণয়ন করাও যাবে। ২ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছি। (কেন্দ্র) গান্ধীজির নামে প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। আমি অরূপ ও ববিকে আনন্দপুর পাঠিয়েছিলাম। ওইদিন রাজ্যপালের চা চক্রে যাইনি।”
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “জাতীয় গ্রন্থাগারে পেগাসাস লাগিয়েছেন অনুপ্রবেশের কথা বলছেন? একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন। ”
মমতার প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু জানান, তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। মমতাও পাল্টা বলেন, “আমি অনেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখেছি। আমাকে দেখাবে না। সেল, রেল সব কেন্দ্রীয় সরকার (কেন্দ্রের অধীনস্ত সংস্থা)-কে জমি দিয়েছি। আগে যে জমি গিয়েছি । কাজ শেষ করুন, আবার জমি দেব। আমরা কত জমি দিয়েছি, সেটা তো বলছি না।”
মমতা বলেন, “অনুপ্রবেশের কথা মাথায় ঢুকেছে। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? আপনার প্রতিবাদ করা উচিত ছিল না যখন পরিযায়ী শ্রমিকদের মারা হচ্ছে? আপনি যখন বলেছেন তখন আমরা চুপ ছিলাম। আপনিও চুপ করে শুনুন। এখন কোনও সাংসদ বিধায়ক নিজের এলাকা ছাড়তে পারছে না। আপনি মিটিংয়ে ছিলেন না। আপনি কারও মুখে শুনে কথা বলছেন।”
রাজ্যপালের বক্তৃতার ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে মমতা বলেন, “রাজ্যপাল যা বলার বলে গিয়েছেন। ১.১৫ বিমান রয়েছে। তাই তিনি টেবিল করে গিয়েছেন। আমাকে কী বলেছেন, রাজ্যপাল বলুন।”
শুভেন্দু বলেন, “অনুপ্রবেশ সমস্যায় ডেমোগ্রাফি বদল হচ্ছে। ৮ বার স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়েছেন সীমান্তে বেড়া দিতে জমি চেয়ে। কাঁটাতার দেওয়া যায়নি জমি সমস্যার কারণে। বিরোধী দলের সাংসদ বিধায়করা আক্রান্ত হচ্ছেন। বিরোধী দলকে কর্মসূচি করতে আদালতে যেতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী নেত্রী ছিলেন। তিনি কতবার আদালতে গিয়েছেন? আমি তাঁর সাথে ২১ বছর ছিলাম। তাই জানি।”
শুভেন্দু বলেন, “বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে রাজ্যপাল পুরো ভাষণ পাঠ করেননি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জায়গায় তিনি আটকে যান। কারণ, বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী লেখা পড়তে চাননি। তাই মাত্র সাড়ে চার মিনিটে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।”
অধিবেশনে কারা বক্তৃতা করবেন, সেই বক্তাদের তালিকা নেই কেন? প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। স্পিকার জানান, এসআইআর নিয়ে কিছু যাবে না। তিনি আরও জানান, সরকার পক্ষ থেকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। বিরোধী দলনেতাকে ১০ মিনিট বলার সময় দিয়েছেন স্পিকার। তাতে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, “না বলতেই দিতে পারতেন।”
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, অনুপ্রবেশেকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “আনন্দপুরে ২৭ জন মারা গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যেতে সক্ষম হননি। ডিএ নিয়ে সুখবর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগে বলতেন কোর্টে জিতেছি, এ বার ভোটে জিতব। এ বার কি বলবেন? কোর্টে হেরেছি, ভোটেও হারব? ৭০ শতাংশ হারে ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৪ সালে ভোটার ৩২ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩-১৪ লাখ ভোটার যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু কী ভাবে এই বৃদ্ধি হল। বিএলওদের কেন র্যাম্পে নিয়ে আসা হচ্ছে না?”
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিজ়নেস অ্যাডভাইজ়রি (বিএ) কমিটির রেজ়োলিউশন সকালে জানানো হল। কিন্তু এখন বদলে দেওয়া হচ্ছে। স্পিকার লিস্ট দিন। আমাদের জানানো হল এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা তৈরি হয়ে এলাম। কিন্তু এখন বলবে না।”
এসআইআর নিয়ে বিধানসভায় আলোচনায় সম্মতি দিলেন না স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিধানসভায় আলোচনা হবে না। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
রাজ্যপালকে ধন্যবাদ জানালেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এর পরে এসআইআর নিয়ে প্রস্তাব আনেন তিনি। তা সমর্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভনদেব বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এসআইআরের কারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি হচ্ছে। ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্যাতনে কমিশনে পরিণত হয়েছে।”
রাজ্যপালের ভাষণের পরে ফের বসল বিধানসভার অধিবেশন। বাজেট পেশের আগে এখন এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে অধিবেশনে।
অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের আগে বৃহস্পতিবার এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ধার্য করা হয়েছে।
বিরতি ঘোষণার আগে বিধানসভায় ‘সারে জহাঁ সে আচ্ছা’ গান বাজছিল। সব বিধায়কেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই সময়ে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে এসেছেন বিজেপির বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
রাজ্যপাল বিধানসভা থেকে যাওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন স্পিকারও। পরে অধিবেশনে ফিরে স্পিকার বিরতি ঘোষণা করেন। দুপুর ১টায় ফের শুরু হবে অধিবেশন।
বিধানসভায় সংক্ষেপেই বাজেট বক্তৃতা শেষ করলেন রাজ্যপাল বোস। বক্তৃতা শেষে হাতে হাত ধরে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে। বক্তৃতা সেরে যাওয়ার সময়ে রাজ্যপালের উদ্দেশে ‘ওয়েল ডান’ বলে হাততালি বিজেপি বিধায়কদের।
স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানের মাঝেই বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করলেন রাজ্যপাল বোস। রাজ্যের বাজেট অধিবেশন দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত রয়েছেন মনোজ পন্থও।
অধিবেশনে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হতেই ‘ভারত মাতা কী জয়’ ধ্বনি তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্লোগান দেয় বিজেপি পরিষদী দলও। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy