ধরুন আপনার বয়স ৪০। কিন্তু হার্টের বয়স হতে পারে ৫৫! স্বাস্থ্যের নিরিখে ভারতীয়দের মধ্যে এমনটা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের হার্টের বয়স তাদের বয়সের চাইতে বেশি। তার মধ্যে কালো মানুষদের আরও বেশি। আবার জাপান, তিব্বত বা চিনের মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, হার্টের বয়স মানুষটার চাইতে কম। নিশ্চয়ই ভাবেছেন, হার্টের বয়স ব্যাপারটা কী?
এসএসকেএম হাসপাতালের সহকারি শিক্ষক চিকিৎসক ভুবন মাজি বললেন, হার্টের বয়স বলতে বোঝায় আপনার হার্ট আট্যাকের ঝুঁকি কতখানি। বছর ৩৫-এর কোনও ধূমপায়ীর রক্তচাপ বেশি, ওজনও বেশি। সে ক্ষেত্রে তাঁর হার্টের বয়স ৫০ বছর বললে বুঝতে হবে, পঞ্চাশ বছর বয়সী কারও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা যতখানি, ৩৫ বছরেই তাঁর ঝুঁকি ততখানি।
তা হলে উপায়? বয়স, ওজন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা, বংশের ধারা, ধূমপান ইত্যাদি হল হার্ট অ্যাটাকের ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’। এর মধ্যে বয়স, বংশগত কারণ, এই ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করতে পারেন, এক্সারসাইজ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, বা প্রেসার, ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সেটা করেই হার্টের বয়স কমিয়ে ফেলতে পারেন। অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারেন।
যেমন, উচ্চ রক্তচাপ ও ধূমপানের অভ্যাস একসঙ্গে থাকলে হার্টের বয়স ২৩ বছর বেশি। শুধু ধূমপান বন্ধ করলে বছর দুয়েকের মধ্যে হার্টের বয়স কমে হয় ১৫ বছর! ়ডায়েটের উপরেও নির্ভর করে বয়স। জাপানিরা সামুদ্রিক মাছ বেশি খায়, তাই ওঁদের হার্টের বয়স কম। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষরা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাঁদেরও হার্টের বয়স কম। সুতরাং ইচ্ছে থাকলেই হার্টের বয়স কমানো যায়।
হার্টের বয়স
• অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে হার্টের বয়স ১০-১৫ বছর বেশি।
• ধূমপান করলে ১০-১৫ বছর বেশি উচ্চ রক্তচাপ হলে হার্টের বয়স ৮ বছর বেশি।
• রক্তের উচ্চচাপ ও ধূমপান দুটোই এক সঙ্গে থাকলে হার্টের বয়স ২৩ বছর বেশি
ওজন বেশি হলে হার্টের বয়স ৫ বছর বেশি।