একশো দিনের প্রকল্পে পিছিয়ে পড়া গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে এ বার থেকে ‘কাজ মেলা’ করার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। যে সব পঞ্চায়েত লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, সেই সব ব্লকেই মেলার আয়োজন হবে। মেলা থেকে বিতরণ করা হবে কাজ চাওয়ার আবেদনপত্র ৪-এর ক। কর্মপ্রার্থীরা আবেদনপত্র পূরণ করে মেলাতেই জমা দিতে পারবেন। তারপর তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায়, কবে থেকে, কী কাজ করতে হবে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলছেন একশো দিন নয়, দু’শো দিন কাজ দেওয়া হবে, সেখানে বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে পারেনি। তাই কাজ মেলা করার সিদ্ধান্ত।” অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) পাপিয়া ঘোষ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকে কাজ মেলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাফল্য পেলে পিছিয়ে পড়া অন্য ব্লকেও মেলা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, কয়েকটি ব্লক একশো দিনের কাজের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পারলেও অনেক ব্লকই পিছিয়ে রয়েছে। পিছিয়ে পড়া ব্লকের তালিকায় রয়েছে জঙ্গলমহলের গোপীবল্লভপুর-১, বিনপুর-২, জামবনির মতো ব্লক। পিছিয়ে পিংলাও। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সব ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি বছরে ১৩ থেকে ১৫ হাজার শ্রমদিবস তৈরি করার পরিকল্পনা নিলেও বছর শেষে দেখা যাচ্ছে কোনও পঞ্চায়েত মাত্র ২ হাজার তো কোনও পঞ্চায়েত ৩ থেকে ৫ হাজার শ্রম দিবস তৈরি করতে পেরেছে। সেই নিরিখে গোপীবল্লভপুর-১ ব্লক ৩১ শতাংশ, পিংলা ৪৪ শতাংশ, জামবনি ৫৬ শতাংশ, বিনপুর-২ ব্লক ৬৬ শতাংশ কাজ করতে পেরেছে।
একশো দিনের প্রকল্পে পিছিয়ে পড়া গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের কাজের খতিয়ান নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবারই সেখানে বৈঠক করেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই ব্লকের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে তৃণমূলের দখলে, কয়েকটিতে ক্ষমতায় রয়েছে ঝাড়খণ্ড পার্টি বা ঝাড়খণ্ড পার্টি-সিপিএম জোট। সেই জটিলতায় কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি মন্থর হচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। তখনই ওঠে কাজ মেলার কথা। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকে আগামী সপ্তাহেই মেলা করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। তার আগে ব্লক জুড়ে মাইকে জোরদার প্রচার চালানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিডিওকে। সাতমা, শাশড়া, কেন্দুগাড়ি, আলমপুর, অমরদা, গোপীবল্লভপুরের মতো যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি একশো দিনের কাজে খুবই পিছিয়ে রয়েছে, সেখানে বেশি মাত্রার প্রচার চালানো হবে। এই ব্লকে সাফল্য মিললে পিছিয়ে পড়া অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতেও কাজ মেলা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।