Advertisement
E-Paper

জল অমিল, বিপাকে লালবাগ

কোথাও কল দিয়ে সরু ফিতের মতো জল পড়ছে। কোথাও শুধুমাত্র ট্যাপকল রয়েছে থাকলেও অকেজো। কোথাও পাইপ ফেটে ফোয়ারা জলের ফুটছে—এমনই চিত্র মুর্শিদাবাদ পুরসভা জুড়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০১৬ ০২:২২
অকেজো কল।— নিজস্ব চিত্র

অকেজো কল।— নিজস্ব চিত্র

কোথাও কল দিয়ে সরু ফিতের মতো জল পড়ছে। কোথাও শুধুমাত্র ট্যাপকল রয়েছে থাকলেও অকেজো। কোথাও পাইপ ফেটে ফোয়ারা জলের ফুটছে—এমনই চিত্র মুর্শিদাবাদ পুরসভা জুড়ে।

গত কয়েক দিন ধরে মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে জলকষ্ট শুরু হয়েছে। এমনিতেই নবাবি আমলের মুর্শিদাবাদ শহরে পানীয় জলের সমস্যা নতুন ঘটনা নয়। প্রতি বছরই গরমের সময়ে জলসঙ্কট দেখা দেয়। জলসঙ্কট থেকে পুর বাসিন্দাদের রেহাই দিতে প্রতি বছরই পুর-কর্তৃপক্ষ নিজেদের খরচে পাড়ার মধ্যে বা রাস্তার ধারে ট্যাপকল বসিয়ে দেয়। এতে সাময়িক ভাবে সমস্যা হয়তো মিটলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাপকলের সংযোগ দেওয়ায় জলের গতি কমে গিয়ে জলসঙ্কট তীব্র আকার নেয়।

সমস্যার কথা মানছেন পুরপ্রধান কংগ্রেসের বিপ্লব চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের পানীয় জলের চাহিদা ও দাবি মত ট্যাপকলের অতিরিক্ত সংযোগ দেওয়ার ফলে জলের গতি কমে গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু পুরবাসিন্দাদের জলসঙ্কট থেকে রেহাই দিতে অতিরিক্ত ট্যাপকল বসানো ছাড়াও অন্য কোনও উপায় ছিল না। যদিও এ জন্য পুরবাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনও বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়নি। পুরসভা নিজেদের খরচে ওই ট্যাপকল বসিয়েছে।’’

মুর্শিদাবাদ পুরসভা এলাকায় ১৯৭৮ সালে জল সরবরাহ করতে শুরু করে পিএইচই। সেই সময়ে তারা ১৩০টি ট্যাপকল বসায় এবং দল সরবরাহ করার জন্য একটি মাত্র জলাধার নির্মিত হয়। তখন অবশ্য পুরসভার জনসংখ্যা ছিল ২২ হাজার। বর্তমানে ওই জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পানীয় জলের চাহিদা বেড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি মেনে পুর-কর্তৃপক্ষও প্রতি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ট্যাপকল বসিয়েছে এবং পিএইচই-র ট্যাপকলের সঙ্গে ওই ট্যাপকলের জলের সংযোগও দিয়েছে, যদিও তা বেআইনি। কিন্তু পুরসভার সাফাই, সাধারণ মানুষের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতেই ওই বেআইনি কাজ করতে তারা বাধ্য হয়েছে।

এলাকাবাসীর কথায়, পিএইচই-র সরবরাহ করা ওই জলে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন রয়েছে। ফলে জলের পাইপের মধ্যে পুরু হয়ে মরচে পড়ে গিয়েছে। জল ঠিক মতো পড়ে না। সেই সঙ্গে পিএইচই-র ট্যাপকলের সঙ্গে পুরসভার ট্যাপকলের সংযোগ থাকায় জলের গতিও আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে। কোনও কোনও ওয়ার্ডে কলের মুখ দিয়ে জলই পড়ে না। ওই পাইপ লাইন সংস্কারের কথা জানিয়ে পুরসভা সম্প্রতি পিএইচই দফতরে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন করেছে। কিন্তু পাইপ লাইন সংস্কারের করার মত প্রয়োজনীয় অর্থ দফতরের কাছে নেই বলেও তারা পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে।

এই অবস্থায় পুর বাসিন্দাদের জলসঙ্কট মেটাতে মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল সেক্টর (ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করার কথা জানিয়ে ২০১৫ সালের অগস্টে মুর্শিদাবাদের পুরপ্রধান লিখিত দাবি জানান। ওই দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে সম্প্রতি পিএইচই দফতর চিঠি দিয়েছে। পিএইচই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে ওই প্রকল্পের আওতায় মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়। সেই মতো ভাগীরথী থেকে জল তুলে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পুরসভা এলাকার উপর দিয়েই ওই জল সরবরাহ হলেও তা থেকে এত দিন বঞ্চিত ছিল পুরবাসীরা।

পুরপ্রধান বলেন, ‘‘পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে ওই পানীয় জল সরবরাহ করার জন্য আমি লিখিত ভাবে দাবি জানাই। তার পরেই পিএইচই পুরসভা এলাকায় জল সরবরাহ করার কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।’’ পিএইচই দফতরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার অজয় কুণ্ডু বলেন, ‘‘পুরসভার দাবি মেনে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের পিএইচই-র ১৩০টি ট্যাপকলে ওই জল সরবরাহ করা হবে।’’ সেই সঙ্গে আগামী দিন বাসিন্দাদের প্রতি বাড়িতে পাইপ লাইনের সাহায্যে ওই জল পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারেও পুরসভা ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে।

কিন্তু যত দিন ওই জল সরবরাহ না হচ্ছে, তত দিন বাসিন্দাদের জলকষ্টে ভুগতেই হবে!

Water scarcity tapwater
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy