Advertisement
E-Paper

ছাত্র ভর্তির প্রথম দিনেই রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর কলেজ

ছাত্র ভর্তির প্রথম দিনেই ছাত্র পরিষদ, এসএফআই ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জঙ্গিপুর কলেজ চত্বর। হাতে বাঁশ, লাঠি, কোদালের বাঁট, সাইকেলের চেন, কোমরের বেল্টই শুধু নয়, পিস্তল নিয়ে হামলারও অভিযোগ উঠেছে এসএফআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলা এই তাণ্ডব থামাতে একাধিক বার লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৪ ০১:৫৭
জঙ্গিপুর কলেজে সংশস্ত্র সংঘর্ষে ছাত্ররা। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়।

জঙ্গিপুর কলেজে সংশস্ত্র সংঘর্ষে ছাত্ররা। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়।

ছাত্র ভর্তির প্রথম দিনেই ছাত্র পরিষদ, এসএফআই ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জঙ্গিপুর কলেজ চত্বর। হাতে বাঁশ, লাঠি, কোদালের বাঁট, সাইকেলের চেন, কোমরের বেল্টই শুধু নয়, পিস্তল নিয়ে হামলারও অভিযোগ উঠেছে এসএফআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলা এই তাণ্ডব থামাতে একাধিক বার লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে। কাউন্সেলিংয়ের জন্য কলেজে আসা ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা এক সময় আতঙ্কে দৌড়তে শুরু করেন। পরে পুলিশ উত্তেজিত ছাত্রনেতাদের তাড়া করে কলেজ চত্বর থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিনের সংঘর্ষে তিন ছাত্র সংগঠনের মোট ১২ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। ৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। এদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র পরিষদের জঙ্গিপুর শহর ইউনিটের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, বাকি ৩ জন এসএফআইয়ের জোনাল সম্পাদক দেবাশিস রায়, উমরপুর শাখার সভাপতি বেদারুল শেখ, সাধারণ সম্পাদক ফুরকান শেখ।

সোমবার ছিল প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রথম কাউন্সেলিং। বিজ্ঞান শাখার সমস্ত অনার্স বিষয় ছাড়াও ভূগোল ও ইংরেজির জন্য কাউন্সেলিং চলছিল। জঙ্গিপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অসীম মণ্ডল বলেন, “বেলা ১১টায় কাউন্সেলিং শুরুর সময় এই সংঘর্ষ শুরু হয় কলেজ গেটের বাইরে। কলেজের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলে কয়েকজন। তারপরে পুলিশ প্রহরায় কাউন্সেলিং শেষ করতে হয়েছে।” অধ্যক্ষ জানান মঙ্গলবার কলা ও বাণিজ্য বিভাগে কাউন্সেলিং হওয়ার কথা। সোমবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ আরও কড়া পদক্ষেপ করবে বলে তাঁর আশা।

পুলিশের লাঠিচার্জ।

জঙ্গিপুর কলেজে এবারে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে। মেধা তালিকা প্রকাশ করে সোম ও মঙ্গলবার কাউন্সেলিংয়ের সময় দেওয়া হয় বেলা ১১টা থেকে। ওই সময়ের পরে আর কোনো ছাত্রছাত্রীকে কলেজে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়। বেলা ১০টা থেকেই কলেজে ঢোকার জন্য ভিড় বাড়তে থাকে। তিন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও জড়ো হন নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্যের জন্য।

বেলা ১১টা বাজতেই কলেজ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে যানজটের জন্য আটকে পড়া জনা কয় ছাত্রছাত্রী মিনিট পাঁচেকের মধ্যে হাজির হয়ে দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করেন। এই সময় সেখানে হাজির ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা ওই ছাত্রছাত্রীদের কলেজে ঢুকতে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। অভিযোগ ওই দুই সংগঠনের সমর্থকরা কলেজের দরজায় ধাক্কাও দিতে শুরু করেন। উপস্থিত এসএফআই সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন এবং অভিযোগ তোলেন টাকা নিয়ে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ছাত্র ঢোকাচ্ছে ছাত্র পরিষদের দুই সংগঠন। এ থেকেই শুরু হয় বচসা।

এরপরেই তিন ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের দেখা যায় হাতে বাঁশ, লাঠি, কোদালের বাঁট, সাইকেলের চেন, বেল্ট নিয়ে পরস্পরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে। কলেজ চত্বরে তখন পুলিশের সংখ্যা ছিল তুলনায় কম। ফলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ। কারও মাথা ফাটে, কারও নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে, একে অন্যের দিকে লাঠি হাতে ছুটতে থাকে। এক ছাত্র পরিষদ নেতাকে রাস্তার উপর ঘিরে ধরে বাঁশ, লাঠি, চেন নিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করেন এসএফআই কর্মীরা। তাঁকে রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে এসএফআই সমর্থকরা আশ্রয় নিয়েছে কলেজ লাগোয়া বিডিও অফিস চত্বরে। খবর পেয়ে সেখানেই ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে একদল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সমর্থক। ছুটে যায় পুলিশও। বেধড়ক লাঠি চালিয়ে ব্লক অফিস এলাকা থেকে দু’দল সমর্থককেই বের করে দেয় পুলিশ।

অভিভাবকদের আশ্বস্ত করছে পুলিশ।

রক্তাক্ত সংঘর্ষের এই চেহারা দেখে কলেজের সামনে অপেক্ষমান অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে কলেজের দরজা তালা বন্ধ থাকায় বাইরের ছাত্র সংঘর্ষের আঁচ গিয়ে পড়তে পারেনি ভর্তি হতে কলেজে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের উপর।

ছাত্র সংগঠনের নেতারা এরপর ছুটে যান জঙ্গিপুর হাসপাতালে। আহত ছয় জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও চার জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে অবশ্য বিবদমান সমর্থকদের রাখা হয়েছে একই ঘরে, পাশাপাশি শয্যায়। দু’দলের সমর্থকরাই হাসপাতালের ওই ঘরে ঘিরে রেখেছেন তাঁদের আহত নেতাদের। ছাত্র পরিষদের জঙ্গিপুর শহর কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, “পরিকল্পিত ভাবেই বাঁশ, লাঠি, পিস্তল নিয়ে হামলা করেছেন এসএফআই সমর্থকরা। নবাগত ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যের জন্য কলেজে গিয়েছিল আমাদের সংগঠনের ছেলেরা। তবে আমি কলেজ লাগোয়া ব্যাঙ্কে গিয়েছিলাম অন্য কাজে। ফিরে আসার সময় আমাকে একা পেয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে এসএফআই। পিস্তলের বাঁট দিয়ে মুখে ও মাথায় মারতে থাকে। নাখ, মুখ ফেটে যায়।”

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক খাইরুল আলম বলেন, “কলেজের ছাত্র সংসদকে সামনে রেখে দাদাগিরি চালাতে চাইছে এসএফআই। দুই ছাত্র পরিষদ তাতে রুখে দাঁড়ানোয় এ ভাবে হামলা করেছে ওরা। পুলিশ এদিন নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে আমাদের সমর্থকদের উপর।” অন্যদিকে এসএফআই জঙ্গিপুর জোনাল কমিটির সম্পাদক মিজানুর রহমান পিস্তল নিয়ে হামলার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “কলেজের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছিল ওরা। বেআইনি ভাবে কাউন্সেলিং করাতে কলেজে ছাত্র ঢোকাতে চাইছিল। তাতে রুখে দাঁড়াতেই লাঠি, বাঁশ নিয়ে আমাদের দলীয় সমর্থকদের উপরেই এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয়েছে। আহত হয়ে তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। এমনকী আক্রমণ থেকে বাঁচতে যখন পাশের বিডিও অফিসে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে আমাদের ছেলেরা তখন সেখানেও চড়াও হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।”

পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর বলেন, “সংঘর্ষের পর এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কলেজে কড়া পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।”

sfi cp tmcp councelling jangipur college
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy