Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

রাতের থানা ভাল নয়, কবুল ওসি-র

সুনন্দ ঘোষ
০৭ এপ্রিল ২০১৭ ০৩:২১

সোনারপুর স্টেশন সংলগ্ন এই বাড়িটা লোকের কাছে থানা বলে পরিচিত। দু’টি বিধানসভা এলাকার প্রায় চার লক্ষ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব এই থানার। অথচ এক নাবালিকাকে একটি রাতের জন্য এই সোনারপুর থানায় রাখার ঝুঁকি নিতে পারলেন না বড়বাবু!

থানায় তো রাতে মহিলা পুলিশ থাকে। তা হলে অসুবিধা কোথায়? জবাবে কোনও জড়তা না রেখেই ওসি বললেন, ‘‘থানার পরিবেশ তো ভাল নয়।’’ কলকাতার উপান্তে একটি থানার পরিবেশই যদি ভাল না হয়, তা হলে পুলিশ এত মানুষের নিরাপত্তা দেবে কী করে! এ বার ঢোঁক গিলে বড়বাবুর জবাব, ‘‘আরে, থানায় সারা রাত ধরে মাতালদের যাতায়াত চলে। আসামিরা যাতায়াত করে। এক নাবালিকা থানায় বসে সে সব দেখলে তার উপরে মানসিক চাপ হবে তো!’’

রাজ্য পুলিশের একটি অংশের মতে, ওই বড়বাবু পরেশ রায় রাতের থানার বাস্তব ছবিটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন। অনেক থানাই রাতে নিরাপদ নয়। তা হলে মহিলা পুলিশও নিরাপদ নন? এর উত্তর মেলেনি।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২৯ মার্চ। ওই দিন সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সনাতন দে (নাম পরিবর্তিত)-র বাড়ি থেকে তাঁর দশম শ্রেণির মেয়ে রাগ করে বেরিয়ে যায়। সনাতনবাবু সোনারপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। ৩১ মার্চ মেয়ে বাড়ি ফেরে। সঙ্গে ছিল আমিনা (নাম পরিবর্তিত) নামে বছর ষোলোর এক নাবালিকা। সনাতনবাবু জানতে পারেন, একটি মেয়েকে গড়িয়া স্টেশনে ঘুরতে দেখে আমিনা তার নিজের বাড়ি নিয়ে গিয়ে দু’দিন রাখে। তার পর তাকে সঙ্গে করে তার বাবার কাছে নিয়ে আসে আমিনা। এর পর সনাতন দু’টি মেয়েকে নিয়ে থানায় যান। সেখান থেকে তাঁর মেয়েকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাজপুরের একটি হোমে। আমিনাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে রাখার জন্য সনাতনকে অনুরোধ করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: মিঠাই পেতে দল নয়, বার্তা অভিষেকের

সনাতনের কথায়, ‘‘আমার কিছু করার ছিল না। অচেনা, অজানা একটি মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরি। আমার নিজের মেয়ে চলে যায় হোমে।’’ ঘনিষ্ঠ মহলে সনাতন জানান, একে নিজের মেয়েকে ফিরে পেয়েও হোমে পাঠিয়ে দিতে হল। তার উপর সম্পূর্ণ অচেনা একটি মেয়েকে বাড়িতে এনে রাখা — তাঁরা গোটা রাতটা দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি।

কিন্তু দু’জনকেই কেন হোমে পাঠানো হল না? পুলিশের যুক্তি, মিসিং ডায়েরি হয়েছিল সনাতনের মেয়ের নামে। আমিনার নামে কোনও অভিযোগ নেই। বড়বাবুর কথায়, ‘‘এক নাবালিকাকে আশ্রয় দিয়ে সনাতন তো ভাল কাজই করেছেন।’’ কিন্তু এক জন অপরিচিত (সনাতন) ব্যক্তির বাড়িতে একটি মেয়েকে পাঠানো কতটা নিরাপদ হল? বড়বাবু জানান, মেয়েটির বাড়ি জয়নগরে। ওই রাতে তার বাড়ির লোক আসতে পারেননি। একটি রাত মেয়েটিকে আশ্রয় দিতেই হতো। সে ক্ষেত্রে থানার বদলে সনাতনের বাড়িকেই বেশি নিরাপদ মনে করেছেন অফিসারেরা।

এখন মেয়ের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সনাতন। রাজপুরের হোমের পক্ষে তাঁকে বলা হয়, এক মাসের আগে মেয়েকে ছাড়া যাবে না। সনাতনের কথায়, ‘‘পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আর আমাদের অবস্থাটাও ভাবুন।’’ যেখানে মেয়ে ও বাবা দু’পক্ষই রাজি, তা হলে কেন ছাড়া হচ্ছে না নাবালিকাকে? জেলার শিশু কল্যাণ সমিতির সদস্য কবিতা বেরার যুক্তি, বাড়ির বাইরে দু’দিন থাকাকালীন যদি কোনও পুরুষের সঙ্গে সে সহবাস করে থাকে, তা হলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়বে। তেমন হয়েছে কি না, পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তা ছাড়া ওকে কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। তাই সময় লাগবে।

আরও পড়ুন

Advertisement