এলাকার বিধায়কের বিজয় মিছিলে হাঁটছিলেন সামীর জালাল, মুজ্জামেল আলিরা। তাঁদের ভাই সপ্তম শ্রেণির ছাত্র গহর আলিও ছিল সেখানে। আচমকা বন্দুকের গুলির আওয়াজে সকলে চমকে ওঠেন। দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলি গহরের ডান দিকের বুকে উপরের অংশে লাগায় সে ছটফট করছিল। তার পর ইসলামপুর হাসপাতাল, সেখান থেকে শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্যালাইন চলছে। চিকিৎসক রক্ত মজুত রাখতে বলেছেন। কিন্তু ইসলামপুরের রাধারগছের সুজালি এলাকার বাসিন্দা গরিব পরিবারের ছেলে গহরের চিকিৎসার টাকা আসবে কোথা থেকে তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাড়ির লোকেরা। শিলিগুড়িতে চিকিৎসা করাতে এসে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তাঁরা তৃণমূলের সমর্থক হওয়ায় ইসলামপুরের তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি খুরশেদ আলিও তাঁদের সঙ্গে জখম ছাত্রকে নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে এসেছিলেন। তারপর তিনি ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু ভাইয়ের চিকিৎসা করানোর অর্থ হাতে না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন গহরের দাদারা। রক্ত আনা থেকে ওষুধের খরচ, নিজেদের থাকার জায়গা, খাওয়ার খরচ নিয়ে প্রতি মূহূর্তেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামীর জালালরা পাঁচ ভাই। গহর ছোট। সামীর অন্যের জমিতে চাষ আবাদ করেন। অপর তিন ভাই রমজান, মুজামেল, চান্দু ঝাড়ু বাঁধার কাজ করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর মতো পরিস্থিতি সংসারের। বাবা এগিন আলি বয়সের জন্য চাষের কাজ করতে পারেন না। গহর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। ইসলামপুর হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হলেও সরকারি ওই হাসপাতালের উপর ভরসা করতে পারেননি তাঁরা। তাই পরিচিতদের পরামর্শে গহরের দাদা সামীর, চান্দু এবং রাজু আলিরা নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েছেন ভাইকে বাঁচাতে। কিন্তু এখন চিকিৎসা খরচের কী হবে, তা নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন।
চিকিৎসক রোগীর জন্য রক্ত আনতে বলেছেন। এদিন রাত সওয়া আটটা নাগাদ ৬০০ টাকা দিয়ে এক জায়গা থেকে এক ইউনিট রক্ত নিয়ে এসেছেন চান্দু আলি। তার মধ্যে ৫০০ টাকা খুরশেদ আলি দিয়ে গিয়েছিলেন। রক্ত আরও প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। সেই রক্ত কোথা থেকে কী ভাবে আনবেন, তা বুঝতে পারছেন না। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা করানোর পাশাপাশি কিছু টাকা জমা করার কথাও জানিয়েছেন। কেন না চিকিৎসার জন্য ওষুধ লাগছে। টাকা জোগাড় করতে নেতাদের ফোন করছেন চান্দু, সমের আলিরা। গহরের সঙ্গে শিলিগুড়িতে এসেছেন তাঁরা। সঙ্গে রয়েছেন আরও এক খুড়তুতো ভাই রাজু আলি। নার্সিংহোমের তরফে খরচের কথা স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তাঁদের একাংশ জানান, লক্ষাধিক টাকার মতো খরচ হতে পারে।
সমেরের কথায়, ‘‘ভাইয়ের জীবন বাঁচানোটাই বড়। কিন্তু কোথায় থেকে টাকা পাব বুঝতে পারছি না। এলাকার পরিচিত নেতাদের দুই এক জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু টাকা কী করে জোগাড় হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’’ খুরশেদ আলিও জানান, খুবই গরিব পরিবার। তাঁরাও টাকা জোগারের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে সামান্য কিছু টাকা ছিল। তা দিয়ে এসেছি। সোমবার সকালে আরও কিছু টাকা পাঠানোর চেষ্টা করছি।’’
শিলিগুড়িতে বেলা ৩ টা নাগাদ গহরকে নিয়ে আসা হয়। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর তিন দাদা। রাতে তাঁরা কোথায় থাকবেন? চান্দুর উত্তর, ‘‘সঙ্গে টাকা নেই। ভাইয়ের ওই অবস্থা। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ওষুধের জন্য টাকা চাইছে। তাই দিতে পারছি না। রাতে নার্সিংহোমেই কাটিয়ে দেব।’’