Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তপনে থমকালো স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প

নোট-সমস্যার জের এ বার কেন্দ্রেরই স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচির উপর। ৫০০ এবং হাজারের নতুন টাকার জোগানের অভাবে ওই প্রকল্পে নিজেদের ভাগের টাকা জমা করতে

নিজস্ব সংবাদদাতা
বালুরঘাট ২০ নভেম্বর ২০১৬ ০২:১৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

নোট-সমস্যার জের এ বার কেন্দ্রেরই স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচির উপর। ৫০০ এবং হাজারের নতুন টাকার জোগানের অভাবে ওই প্রকল্পে নিজেদের ভাগের টাকা জমা করতে উৎসাহ হারাচ্ছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের উপভোক্তারা।

সরকারি ওই কর্মসূচির লাগাতার প্রচারে অনেক জায়গাতেই গ্রামের মানুষ পাকা শৌচাগার তৈরি করতে নিজেরা এগিয়ে এসেছিলেন। জেলায় এগিয়ে থাকা তপন ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েতের মধ্যে পুরো আউটিনা পঞ্চায়েত পুজোর আগেই ওডিএফ (ওপেন ডেফিকেশন ফ্রি) বলে ঘোষণা হয়েছে। হরসুরা এবং মালঞ্চা পঞ্চায়েতও দ্রুত পাকা শৌচাগার তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ওডিএফ ঘোষিত হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে নোট বাতিলের ধাক্কায় উপভোক্তারা তাঁদের অংশের টাকা জমা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে ব্লক সূত্রে জানা গিয়েছে।

তপন ব্লকের যুগ্ম বিডিও তথা প্রকল্প আধিকারিক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘‘পুজোর পর দ্রুত কাজ চলছিল। উপভোক্তারা ধান বিক্রি করে এ মাসেই তাঁদের দেয় ৯০০টাকা জমা করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। ফলে কিছু সংসদ এলাকায় শৌচাগার তৈরি করে দিতে পারলেই আরও দু’টি অঞ্চল ওডিএফে পরিণত হত। কিন্তু এই সমস্যায় পড়ে গ্রামবাসীরা টাকা দিতে পারেননি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। গোটা জেলা জুড়েই চিত্রটা এক।’’ প্রসঙ্গত তিনি জানান, তপন ব্লক জুড়ে প্রায় ৩৪ হাজার সুলভ শৌচাগার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ হাজার সুলভ শৌচাগার তৈরির কাজ শেষও হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

এ রাজ্যে মিশন নির্মল বাংলা নামে চালু ওই প্রকল্পে খোলা জায়গায় শৌচকর্মের বিরুদ্ধে বছরের শুরুতে সরকারি উদ্যোগে সুলভ শৌচাগার তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়। ব্লকস্তরে গ্রামীণ এলাকায় পরিবার পিছু একটি করে পাকা শৌচাগার তৈরি বাবদ খরচ ধার্য হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপভোক্তাকে ব্লক অফিস ৯০০ টাকা জমা করতে হবে। বাকি ৯,১০০ টাকা সরকারি ভর্তুকি দিয়ে তৈরি হবে পাকা শৌচগার।

দক্ষিণ দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলাশাসক অমলকান্তি রায় বলেন, ‘‘নোট বাতিলের প্রভাব পড়েছে। তবে শৌচাগার তৈরির জন্য যে সমস্ত বাসিন্দা মানসিক ভাবে প্রস্তুত, আমরা যে কোনও উপায়ে তাঁদের সাহায্য করতে উদ্যোগী হয়েছি।’’ জেলাশাসকের ব্যাখ্যা, যে উপভোক্তার হাতে ৯০০ টাকা দেওয়ার মতো নতুন টাকা নেই, তিনি শৌচাগারের একটা পাইপ কিংবা একটা অংশ কিনে দিলে তাঁরা বাকিটা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ভাবেই বাকি বাসিন্দাদেরও দ্রুত প্রকল্পমুখী করতে উদ্যোগী প্রশাসন।

তবে তপনের মালঞ্চা অঞ্চলের উপভোক্তা তথা কৃষিজীবী গুরুবালা বর্মন, অমল বর্মন, রণেন বর্মনেরা বলেন, ‘‘খুচরো টাকার অভাবে ধানের দাম নেমে গিয়েছে। ক্ষতি করে হাটে গিয়ে ধান বেচতে পারছি না। বাড়িতেই জমে রয়েছে। শৌচাগার তৈরির অংশের টাকা পাব কোথায়?’’ তা নিয়ে এখন চিন্তারও অবকাশ নেই প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দার।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement