Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

গণধর্ষণের নালিশ না নিয়ে সালিশিতে উৎসাহ থানার

সালিশিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এক মহিলা তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে গত ১১ মে অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন মালদহের গাজোল থানায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
মালদহ ৩১ মে ২০১৫ ০২:০৫

সালিশিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এক মহিলা তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে গত ১১ মে অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন মালদহের গাজোল থানায়। তাঁর দবি, অভিযোগ তো নেওয়া হয়ইনি, বরং থানা থেকে সালিশিতে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

থানার পরামর্শে সপ্তাহ দু’য়েক আগে গ্রামে সালিশি সভাও বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের মাতব্বরেরাও। যদিও অভিযুক্তরা না আসায় সভা ভেস্তে যায়। এ দিন শনিবার সকালে এক আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে নির্যাতিতা ফের থানায় গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়। তবে এ দিনও, প্রথমে অভিযোগের প্রতিলিপি থানা থেকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু পুলিশ কেন এমন করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করতে চাইছে কি না, তা-ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

ওই মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামী ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁর দুই ছেলে রয়েছে। বড়ো ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মহিলা বাপের বাড়িতেই থাকেন। অভিযোগ, গত ১০ মে গরমের কারণে বাড়ির বারান্দায় তিনি শুয়ে ছিলেন। পাশেই ছিলেন তাঁর মা এবং ছেলেরা। সে সময় গ্রামেরই দুই যুবক বাড়িতে ঢুকে নির্যাতিতার বৃদ্ধা মায়ের গলায় হাঁসুয়া ঠেকিয়ে রাখে। অন্য চার যুবক নির্যাতিতাকে তুলে পাশের একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে পরপর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরে নির্যাতিতা মহিলা একাই বাড়ি ফিরে যান বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ওষুধও কিনে খেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। পরের দিনই গাজল থানায় অভিযোগ জানাতে যান।

Advertisement

কিন্তু থানা থেকে সালিশি সভা ডাকার পরামর্শ পেয়ে গত ১৩ মে গ্রামেই সালিশি সভা বসায় ওই নির্যাতিতা মহিলার আত্মীয়েরা। সালিশির নেতৃত্ব ছিলেন গ্রামের মোড়ল সুকদেব মন্ডল সহ সাত জন। তবে অভিযুক্তেরা সালিশি সভাতে না আসায় ওই দিন ভেস্তে যায় সভা। মোড়ল সুকদেব বাবু বলেন, ‘‘ওই মহিলা আমার কাছে গিয়ে বিচার বসাতে বলে। তাঁর আত্মীয়েরা বলেছিল অভিযুক্তদের ক্ষমা চাইতে হবে। তবে অভিযুক্তদের ডেকে পাঠানো হলে তারা কেউ আসেনি। ফলে সালিশি সভা হয়নি।’’

তারপরে শনিবার সকালে ফের গাজোল থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান নির্যাতিতা। তবে অভিযোগের রিসিভড কপি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাই আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য এদিন দুপুরে মালদহের এক আইনজীবীর দ্বারস্থ হন ওই নির্যাতিতা। যদিও গাজল থানার পুলিশের দাবি, অভিযোগ পত্রের কপি দেওয়া হয়েছে এবং মামলাও রুজু হয়েছে।

মহিলার আইনজীবী দেবাশিস সরকার বলেন, ‘‘পুলিশ গণধর্ষণের মতো ঘটনার অভিযোগ নিচ্ছে না। উল্টে সালিশি করার পরামর্শ দিচ্ছে। এদিন অভিযোগ নিলেও অভিযোগ পত্রের প্রতিলিপি দেয়নি। সে কারণে এ দিন একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রি করে ডাকে থানায় পাঠানো হয়েছে।’’

মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। থানাতে অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ গাজোল থানা অবশ্য ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। থানার দায়িত্বে থাকা সিআই নেপাল চন্দ্র সেন বলেন, ‘‘আগে কী হয়েছিল বলতে পারব না। তবে এ দিন অভিযোগ নেওয়া নিয়ে কোনও টালবাহানা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’

অভিযোগে ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা এতদিন গ্রামে ঘুরে বেড়ালেও, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে সকলে এলাকা ছাড়া বলে বাসিন্দাদের একাংশের দাবি। নির্যাতিতার অভিযোগ, ‘‘ওরা প্রায় উত্ত্যক্ত করত। লোকলজ্জার ভয়ে প্রতিবাদ করতাম না। সে দিন রাতে গ্রামের এক মাঠে পরপর ধর্ষণ করে। আমার মুখে কাপড় দিয়ে রেখেছিল। ঘটনার পরের দিন থানায় গিলে পুলিশ বলল গ্রামেই মিটিয়ে নিতে। পুলিশি এমন বলায়, আর কার কাছে যাব সেটা ভেবে পাইনি।’’ নির্যাতিতার বৃদ্ধা মা বলেন, ‘‘আমার গলায় দু’জন মিলে হাঁসুয়া ধরে থাকে। ভয়ে আমি চিৎকার করতে পারেনি।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা যুবকদের নিয়ে গ্রামে ক্ষোভ রয়েছে। গ্রামের অনেকেই অশান্তির ভয়ে তাদের এড়িয়ে চলে। ওই এলাকার সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য সন্তোষ মুর্মু বলেন, ‘‘ঘটনাটি আমি গ্রামের মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। নির্যাতিতার পরিবারের থেকে কিছু জানানো হয়নি।’’

আরও পড়ুন

Advertisement