Advertisement
৩১ জানুয়ারি ২০২৩

প্রচারের শেষ বেলা

নাচছে শিব, নাচছে দুর্গা, নাচছে অসুরও। বাদ নেই কার্তিক, কৃষ্ণও। স্বর্গে নয়, কৈলাসেও নয়। বিভিন্ন পালার মুখোশ পরে ছৌশিল্পীরা পুরুলিয়ার পথে ঘুরে বেড়ালেন। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী বিমান সরকার শেষ দিনের প্রচারে ভোটারদের বাড়তি নজর টানতে ভরসা রাখলেন সেই ছৌ শিল্পীদের উপরেই। আবার পাশের ওয়ার্ড ১৫ নম্বরে তখন দর্শন দিচ্ছেন স্বয়ং ‘জুনিয়র অমিতাভ’। রোড শোর গাড়িতে হোক না ‘জাল অমিতাভ’ শাহিদ খান।

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৫ ০২:০০
Share: Save:

শিব আছে, অমিতাভও

Advertisement

নাচছে শিব, নাচছে দুর্গা, নাচছে অসুরও। বাদ নেই কার্তিক, কৃষ্ণও। স্বর্গে নয়, কৈলাসেও নয়। বিভিন্ন পালার মুখোশ পরে ছৌশিল্পীরা পুরুলিয়ার পথে ঘুরে বেড়ালেন। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী বিমান সরকার শেষ দিনের প্রচারে ভোটারদের বাড়তি নজর টানতে ভরসা রাখলেন সেই ছৌ শিল্পীদের উপরেই। আবার পাশের ওয়ার্ড ১৫ নম্বরে তখন দর্শন দিচ্ছেন স্বয়ং ‘জুনিয়র অমিতাভ’। রোড শোর গাড়িতে হোক না ‘জাল অমিতাভ’ শাহিদ খান। কিন্তু দর্শকদের দিকে যখন তিনি হাত তুলে নমস্কার জানাচ্ছিলেন, তখন খচাখচ মোবাইলে ছবি তোলার আগ্রহ কিছুমাত্র কম দেখা যায়নি। সোমবার রাতে এসেছিলেন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে। এ দিন এসেছিলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে। মাঝে মাঝে ভোটের কথা বলছিলেন প্রার্থী রুকাইয়া খাতুনের সমর্থনে। কিন্তু ভিড় কি শোনে সে কথা? ভিড়ের দাবি, শায়েরি শোনাতে হবে। অনুরোধ মেনে শোনালেনও আগের দিন যা শুনিয়েছিলেন, ‘হায়াদ লে কে চলো, কায়দাদ লে কে চলো, মজা তো তব হ্যায়, জমানে কো সাথ লে কে চলো।’’

তাল কাটল ব্যান্ডপার্টি

Advertisement

মাথায় কাশিঘাস ও খেজুর পাতায় বোনা টুপি। সঙ্গে মাদলিয়া ও ধামসা বাদক। পুরুলিয়ায় পুরভোটের বাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের বিভিন্ন প্রচার সভায় বা মিছিলে দেখা মিলছে এই আদিবাসী যুবক নরেন হাঁসদার। বানামের তারে সুর তুলে নিজের বাঁধা গান শোনাচ্ছেন শ্রোতাদের। প্রচারের শেষদিনেও ঘুরলেন বিধায়ক কে পি সিংহ দেওয়ের সঙ্গে। শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে শহরের জলকষ্টের কথা মাথায় রেখে ভোটারদের তিনি শোনালেন, ‘‘কে পি দাদার জলের ধারা, সুজয় দাদার রাস্তার ধারা’’। সেখান থেকে শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে ব্যান্ডপার্টির জগঝম্পের জেরে সেখানে বিশেষ সুবিধা হল না। টানা দিন কয়েকের প্রচার শেষ করলেন বটে, তবে খানিকটা আক্ষেপ নিয়েই। ব্যান্ডপার্টির আওয়াজে ভাল করে গানই গাওয়া হল না শিল্পীর। বললেন, ‘‘কত গান তৈরি করেছিলাম। এত জোরে ব্যান্ডপার্টির বাজনা বাজছিল। সে সব ভাল করে গাওয়ার ফুরসৎই পেলাম না।’’

প্রচারে জোকার

ফুল, পাতা, ফল প্রভৃতি প্রতীকের ভিড়ে তাঁর প্রতীকটা যদি ভোটারের নজরে না আসে! তাই ভোটারদের নজর টানতে এ বার প্রতীক আস্ত একটা সাইকেল ভ্যানে বেঁধে এলাকায় শেষ দিনের প্রচার চালালেন বিষ্ণুপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী রাজীবকান্তি রায়।এই বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের ভোটের প্রতীক যে ‘সাইকেল’। আবার সার্কাসের তাঁবু ছেড়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিশাল মিছিলের সামনের সারিতে চলে এসেছিল এক জোকার। পথচলতি ছোটদের সঙ্গে তিনি কখনও হাত মেলালেন, কখনও বা বড়দের দেখে জোড় হাত করলেন। মিছিলে ছিলেন প্রার্থী রবিলোচন দে ও বিদায়ী পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

দাদারাই ভরসা

শাসকদলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী তিনি। বাঁকুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মমতা বাগদিকে তাই সব সময় আগলে রাখছেন দলের নেতা-কর্মীরা। শেষ দিনের প্রচারে থার্মোকলের নকল ইভিএমে ক্রমানুযায়ী প্রার্থী তালিকার ছবি বানিয়ে নিজের নামে ছাপ দিতে অনুরোধ করলেন তিনি। প্রার্থীর ভুল দেখে অমনি এগিয়ে এলেন ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “নাম না দেখিয়ে বোতামটা দেখাও। ওখানে আঙুল দিয়ে টিপে ভোট দিতে বল।” প্রথমবার ভোটে নেমে কেমন লাগল? খ্রিস্টান কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মমতা বলেন, “ভোটের প্রচার থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম সব কিছুই দাদারা সামলে দিয়েছেন। আমি খুব উপভোগ করেছি বিষয়টা।”

ভোটারের ধাঁধা

‘‘লোকসভায় দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। কিন্তু পুরভোটে বিশেষ একটা নজরেই পড়েনি। বলতো কী?’’ কুলফি মালাই খেতে খেতে কেন্দুয়াডিহির একটি মাঠের পাশে এক বন্ধুকে প্রশ্নটা ছুঁড়েছিল সৌরভ নন্দী। বন্ধু খানিক মাথা চুলকেও উত্তর না খুঁজে পাওয়ায় পরে সৌরভই ধাঁধার সমাধান করে বলে, “মোদী মুখোশ।” তবে শেষ দিনের প্রচারে অবশ্য বাঁকুড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী জয়দেব মণ্ডলের কিছু অনুগামীকে মোদী মুখোশ পরে প্রচারে বেরতে দেখা গেল। লোকসভার মূল অস্ত্র মোদী মুখোশ পুরভোটে ব্রাত্য কেন? বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি জীবন চক্রবর্তী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে অনেক উন্নয়ন করেছেন মোদীজি। তাই এ বার আর মুখোশ নয়, তাঁর কাজই আমাদের হাতিয়ার।’’

এনার্জি শেষ

ঠিক ছিল প্রচারের শেষ দিনে শহর জুড়ে বিরাট মিছিল করে সবাইকে জনসমর্থন কাকে বলে দেখিয়ে দেবে রঘুনাথপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু পরপর গত দু’দিনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো এবং মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সভা করতে গিয়ে দলের কর্মীদের আর রোদের মধ্যে মিছিলে টেনে আনা দুষ্কর হয়ে ওঠে। তাই মিছিল বাতিল করে শেষবেলায় ওয়ার্ড-ওয়ার্ডে বাড়ি-বাড়ি প্রচার করলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। কয়েকটি ছোট পথসভাও হয়। ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ্ সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি। মিছিল বাতিল কেন? এক নেতা বলেন, ‘‘এনার্জি শেষ। দু’দিন হাল্কা গা গরম করে খেলতে নামব শনিবার।’’

চলমান সভা

হুডখোলা জিপে চড়ে জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী ও যুবনেতা শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বাঁকুড়া পুরশহর দিনভর চষে বেড়ালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তৃতাও দিলেন গাড়ি থেকেই। বাম-বিজেপির সমালোচনা থেকে বাঁকুড়ায় পানীয় জল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস সব কিছু নিয়েই তিনি বললেন। পথচলতি অনেকেই এই রোড শো-কে ‘চলমান সভা’ বলে উল্লেখ করলেন। অনেকে আবার এও বললেন, এমন গাড়ি হলে আর মঞ্চ বাঁধার কি দরকার। সভায় লোক নিয়ে এসে জমায়েত করার বদলে গাড়িতে চড়ে গোটা শহরে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানোই ভাল। তাহলে সাধারণ মানুষকেও রোদে গরমে কষ্ট করে সভায় যেতে হয় না। আর সভার জেরে পুরবাসীকে নাকালও হতে হয় না। ঘরে বসেই নেতার কথা কানে ঢুকে যাবে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.