উস্কানিমূলক মন্তব্য, নিজের গাড়িতে অবৈধ ভাবে লাল বাতি ব্যবহার-সহ বিভিন্ন অভিযোগে ঠিক এক বছর আগেই তাঁকে ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ থেকে বহিষ্কার করেছিল মসজিদ কমিটি। তার পরেই নুরুর রহমান বরকতিকে ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য-পদ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব গৃহীত হয় বোর্ডের বৈঠকে।
বহিষ্কারের সেই প্রস্তাব রূপায়ণ করতে দশ মাস আগে নবান্নে ফাইল পাঠানো হলেও বরকতি এখনও ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য-পদে বহাল রয়েছেন। ‘‘ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য থেকে কেউ আমাকে সরে যেতে বলেননি। আমি এমন কোনও কাজ করিনি যে, আমাকে বোর্ড থেকে সরে যেতে হবে,’’ বলছেন বরকতি।
প্রশ্ন উঠছে, যে-সব অভিযোগের ভিত্তিতে বরকতিকে ওয়াকফ বোর্ড থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়, নবান্ন কি তা অনুমোদন করে না? যদি না-করে, তা হলে টিপু সুলতান মসজিদ থেকে তাঁকে সরাতে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তৎপর হয়েছিলেন কেন? কেনই বা বরকতিকে ইমামের পদ থেকে সরাতে মসজিদের সামনে সভা করেছিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী?
গত বছরের ১৪ মে বরকতিকে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম-পদ থেকে বহিষ্কার করেন মসজিদ-কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, নির্দেশ অমান্য করে দিনের পর দিন গাড়িতে লাল বাতি ব্যবহার করছিলেন তিনি। ইমাম-পদ থেকে সরে যাওয়ার আগে বরকতি দাবি করেছিলেন, লাল বাতি লাগানোর অধিকার দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ব্রিটিশ সরকার তাঁর পরিবারকে দিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বরকতি নিজের গাড়ি থেকে লাল বাতি খুলে নেন। সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগও ওঠে বরকতির বিরুদ্ধে। তার পরেই তাঁকে সরাতে টিপু সুলতান মসজিদ কমিটির পাশাপাশি তৎপর হয় শাসক দল। বরকতি যাতে সরে দাঁড়ান, সেই জন্য তাঁর বাড়িতে গিয়ে দরবার করেছিলেন ফিরহাদ। এমনকি তিনি নিজেই বরকতিকে মসজিদ থেকে বার করে আনেন।
বরকতির ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য-পদে থাকা ঠিক কি না, সেই বিষয়ে ফিরহাদ বা সিদ্দিকুল্লা এখন আর কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।
ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল গনির বক্তব্য, বছরখানেক আগে বরকতি যে-কাজ করেছিলেন, তাতে তিনি ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য থাকতে পারেন না। ‘‘আচরণবিধি অনুযায়ী তাঁকে সরানো যায়। কিন্তু নবান্ন থেকে সবুজ সঙ্কেত না-আসায় আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছি না,’’ বলছেন গনি।
ইমাম-পদ থেকে বহিষ্কারের পরেই বরকতির ‘ভাবমূর্তি’-তে ক্ষুব্ধ ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যেরাও তাঁকে বোর্ডে রাখতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সংখ্যালঘু দফতরের পূর্ণ মন্ত্রী। দশ মাস আগে বরকতিকে ওয়াকফ বোর্ড থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা অনুমোদন না-করায় প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কি শুধু ফাইল চালাচালির দীর্ঘসূত্রতা জড়িয়ে রয়েছে? নাকি এর মূলে আছে কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক। সংখ্যালঘু দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’’