নিজের লেখা নাটককে হাতিয়ার করে নারীর মুখে প্রতিবাদের ভাষা ফোটাতে চান সরস্বতী দাস। সিউড়ি শহরের সবুজপল্লির বাসিন্দা সরস্বতীর লেখা নাটক ‘ডেথ অফ ওয়ানস্ হোপ’ সাঁইথিয়ায় ড্যাংরায় আজ, শুক্রবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে। আয়োজক জেলার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। নাটক দেখার জন্য কোনও প্রবেশ মূল্য নেই।

সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন সরস্বতী। কিশোরী থেকে যুবতী হয়ে ওঠার পথে দেখেছেন নারীদের লাঞ্ছনা, যৌন নির্যাতন, প্রেমিকের প্রতারণার মতো বহু ঘটনা। সে সব ঘটনার প্রতিবাদ, মোমবাতি মিছিলও হয়তো হয়েছে। কিন্তু, নতুন ঘটনার স্রোতে তা হারিয়ে যেতেও সময় লাগেনি। সরস্বতী জানালেন, নতুন নাটক ‘ডেথ অফ ওয়ানস্ হোপ’-এ নানা ভাবে ফিরে এসেছে চাপা কান্নার সেই সব ইতিহাস। নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসেছে অনেক নারী চরিত্র। নিজের লেখা নাটকের নির্দেশকও তিনি। 

নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক এমনকি অভিনেতাও। এ সব করতে গিয়ে পরিবার থেকে কোনও ওজর-আপত্তি ওঠেনি? সরস্বতী জানাল, বাবা চিনু দাস এবং মা শকুন্তলাদেবী ছোট থেকেই উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স পাশ করেন। তার পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট‍্য নির্দেশনায় এমএ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত কয়েক’টি নাটক হল ‘অনুভবে বিনোদিনী’, ‘মেরা ভারত মহান’, ‘রঞ্জন আসবে ফিরে’, ‘মা-মাটি-প্রেরণা’। বেশ কয়েকটি নাটকে নির্দেশনাও করেছেন। 

কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সংস্কৃতির ভাব জাগাতে মহম্মদবাজারের খড়িয়া গ্রামে তাঁর গুরু লেটো সম্রাট হরকুমার গুপ্তের উৎসাহে ২০১৬ সালের ৬ অগস্ট  ‘বীরভূম প্রতিভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে বিনামূল্যে প্রতি রবিবার প্রায় ১৫০ জন কিশোর, কিশোরীকে আবৃত্তি, নাটক, খেলার মাধ্যমে সংস্কৃতির পাঠ দেওয়া হয়। এ ছাড়াও পারুলিয়া পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০ জন কিশোর-কিশোরীকে কবিতা, নাটক, নাচ-গানের তালিম দেন। তার সঙ্গেই চলছে নাট্যচর্চা। 

সম্প্রতি বীরভূম প্রেরণা নাট‍্যগোষ্ঠীর হয়ে মা-মাটি-মেয়ে নাটকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন। ‘ডেথ অব ওয়ানস্ হোপ’ এর মহড়াও হয়েছে বেশ কিছু। সরস্বতী দাসের কথায়, ‘‘২০১১ সাল থেকে চলছে এই নাটকের পাণ্ডুলিপি লেখার কাজ। এই ক’বছর নারী নির্যাতনের ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনাকে স্থান দেওয়া হয়েছে এই নাটকে।’’