Advertisement
E-Paper

মৃত বেড়ে ৮৩৪, যন্ত্রের অভাবে উদ্ধারে ধাক্কা

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র সুটোপো পুরবো নুগরোহো জানান, শুক্রবারের ৭.৫ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির তলায় এখনও আটকে বহু মানুষ। যন্ত্রের অভাবে পালু শহরে হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের খোঁজ করেছেন উদ্ধারকারীরা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:১৩
বিপদ: সুনামিতে ভেসে গিয়েছে বাড়ি। জল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে এক বাসিন্দাকে। রবিবার ইন্দোনেশিয়ার পালুতে। পিটিআই

বিপদ: সুনামিতে ভেসে গিয়েছে বাড়ি। জল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে এক বাসিন্দাকে। রবিবার ইন্দোনেশিয়ার পালুতে। পিটিআই

লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দু’দিনে ইন্দোনেশিয়ায় সুলাবেসি দ্বীপে ভূকম্প ও সুনামিতে মৃত বেড়ে হল ৮৩৪।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র সুটোপো পুরবো নুগরোহো জানান, শুক্রবারের ৭.৫ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির তলায় এখনও আটকে বহু মানুষ। যন্ত্রের অভাবে পালু শহরে হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের খোঁজ করেছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার অভিযানের প্রধান মহম্মদ সায়ুগি বলেছেন, ‘‘ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজন শক্তিশালী যন্ত্রের। খসে পড়া বড় বড় কংক্রিটের চাঁই সরাতে যন্ত্র লাগবে। এই বিশাল কাজ মানুষের পক্ষে সম্ভব না।’’ পালুতে একটি মল ও দুটি হোটেলের তলায় অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাত দিয়ে খুঁড়ে রোয়ারোয়া হোটেলের ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে ২৪ জনকে তুলেছেন উদ্ধারকারীরা। শহরের রাস্তায় পড়ে রয়েছে মৃতদেহের সারি। হাসপাতালগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নীচে চিকিৎসা চলছে আহতদের।

আজ পালুতে পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ তালিসে সৈকতেও যান তিনি। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘‘উদ্ধার সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ করুন। প্রয়োজনে দিন-রাত এক করে কাজ করুন আপনারা।’’

ডঙ্গালা শহরে পৌঁছনো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে ধ্বংসের ছবি এখনও স্পষ্ট নয়। রেড ক্রস জানিয়েছে, গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ডঙ্গালা ও মামুজু শহরের দিকে হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ নিয়ে রওনা হন কর্মীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির এক কর্মীর কথায়, ‘‘সেখানে গিয়ে কী দেখব জানি না!’’ স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, ডঙ্গালায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে মৃতদেহ।

নুগরোহো জানান, ভূমিকম্পের সময়ে পালুতে ছিলেন ৭১ জন বিদেশি। তাঁদের অনেককেই উদ্ধার করে জাকার্তা পাঠানো হয়েছে। তিন জন ফরাসি, এক জন মালয়েশীয় ও দক্ষিণ-কোরিয়ার এক নাগরিকের খোঁজ মিলছে না। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের কোনও নাগরিক হতাহত হননি। রেডক্রস জানিয়েছে, বিপর্যয়ে সামগ্রিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ লক্ষের বেশি মানুষ। গুরুতর আহত কয়েক’শো। গৃহহীন ১৭ হাজার। যতটুকু ‌অবশিষ্ট রয়েছে তা কোনও মতে ব্যাগে ভরে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন রিসা কুসুমা। তাঁর কথায়, ‘‘খুব ভয় করছে। প্রতি মিনিটে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মৃতদেহ আনা হচ্ছে। পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত দোকানবাজারে দেদার লুট চলছে।’’ পালু থেকে চার ঘণ্টা দূরে পোসো। সেখানে পেট্রলের অভাবে সরকারি পাম্পগুলি বন্ধ। সুপার মার্কেটে মজুত করা খাদ্যসামগ্রীও কমে আসছে। মিলছে না জলের বোতল।

ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেয়েও নিজের জায়গা ছেড়ে নড়েননি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অ্যান্থোনিয়াস গুনাবান আগুং। বিমান যাতে নিরাপদে নামতে পারে, তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ২১ বছরের ওই যুবক। উড়ান সংস্থার তরফে এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘তখন ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। এ দিকে যাত্রিবাহী একটি বিমানকে নামার জন্য সঙ্কেত দিয়ে ফেলেছিলেন আগুং। বিমান নামা পর্যন্ত তাই অপেক্ষা করেন তিনি। তার পরে পাঁচতলা টাওয়ারের উপর থেকে ঝাঁপ মারেন।’’ পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে পালুতে বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন দ্বি হারিস। তিনি বলেছেন, ‘‘নিজেদের বাঁচানোর সময়টুকুও ছিল না। ভাঙা দেওয়ালের ফাঁক গলে কোনও মতে আমি বেরিয়ে আসি। পিছন থেকে কানে আসে স্ত্রীর কান্না। তার পরেই সব চুপ। আশা করি ওরা ভাল আছে।’’

নুগরোহো জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে যা আন্দাজ করা হয়েছিল, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তার চেয়ে অনেক বেশি। এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা শুধু পালুতে ঢুকতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আরও তিনটি জায়গার খবর পাচ্ছিনা। অনেক জায়গায় পৌঁছনো যাচ্ছে না।’’ অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে প্রায় চার কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে সরকার।

Death Tsunami Indonesia Jakarta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy