(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন এক ভারতীয়। বিবৃতি প্রকাশ করে এমনটাই দাবি করেছে সৌদির অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর। যদিও এ বিষয়ে রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস বা দিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ওই হামলায় এক বাংলাদেশিরও মৃত্যু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে ঢাকার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই ইজ়রায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা যিনিই হন না কেন, তাঁর অনুমোদনের প্রয়োজন আছে, আবার জানালেন ট্রাম্প। তিনি জানান, যদি তেহরান তাঁর অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেয়, তবে তিনি ‘বেশি দিন টিকবেন না’।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিবৃতি জারি করে এই ফোনালাপের বিষয়টা নিশ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার। ওই অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ ঘাঁটি কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে। মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ব্রিটেন যুদ্ধে যোগ দেয়নি। স্টার্মার প্রথম থেকেই দাবি করছিলেন, মার্কিন সেনাকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার আগে তাদের সামরিক পদক্ষেপ যে বেআইনি নয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। পরে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে আমেরিকাকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে বলে জানান স্টার্মার। তবে তাতে সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। ব্রিটেনের উপর ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ব্রিটেনকে কটাক্ষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে আমেরিকাকে সহায়তার জন্য ব্রিটেন পশ্চিম এশিয়ায় দু’টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তা আমেরিকা নাকচ করে দিয়েছে। কারণ, এখন আর সেগুলির কোনও প্রয়োজন নেই। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ইতিমধ্যে আমেরিকা জিতে গিয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই রাষ্ট্রনেতার ফোনে কথা হল।
ইউএই জানিয়েছে, ইরান তাদের দেশে ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শুধু তা-ই নয় অব্যাহত রেখেছে ড্রোন হামলাও।
তৈলভান্ডারে ইজ়রায়েলি হামলার পর থেকেই অন্ধকারে ডুবেছে তেহরান। তবে হামলা থামাচ্ছে না ইজ়রায়েল। তাদের সেনাবাহিনীর দাবি, ইরানের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সদর দফতরের তারা হামলা চালিয়েছে। সেই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। জানাল ইরান। তারা জানিয়েছে, আমেরিকার স্থলবাহিনীর আক্রমণ রুখতে তৈরি তাদের ‘সাহসী সৈনিকেরা’। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি বলেন, যদি মার্কিন স্থলবাহিনী তাঁদের দেশে ঢোকে, তবে তা আটকাতে প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাইয়ের দায়িত্বে রয়েছে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেওয়ার জন্য রবিবারই একটি বৈঠকে বসে ওই পরিষদ। এর পরেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে রয়টার্স জানায়, ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স’-এর সিংহ ভাগ সদস্যই ঐকমত্যে পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও কাকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে এই ঐকমত্যে ইরান, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অনুমান করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম গোপনে রাখা হচ্ছে।
লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজ়বুল্লাদের নিশানা করে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। রবিবারও তারা লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হিজ়বুল্লা কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইজ়রায়েলি সেনা জানাল, দক্ষিণ লেবাননে দুই সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইজ়রায়েলের কোনও সেনাকর্মীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এল।
ইজ়রায়েলে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরান জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলি সূত্রে খবর, ইজ়রায়েলি হামলায় মধ্য ইজ়রায়েলে তিন জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধে বিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়া। এই পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা দিলেন পোপ চতুর্দশ লিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘আসুন আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যাতে বোমার গর্জন বন্ধ হয়। নীরব হয়ে যায় অস্ত্রের হুঙ্কার। আলোচনার পথ খোলা থাক সর্বদা।’’
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)-তে থাকা ভারতের নাগরিকদের জন্য আরও এক দফা সতর্কতা জারি করল আবুধাবিতে থাকা ভারতীয় দূতাবাস। অযথা হামলার জায়গার ছবি-ভিডিয়ো না-তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করে চলার বার্তা দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
রবিবার সকাল থেকেই বাহরিনে সাইরেন বাজছে। ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার এই ছোট্ট দেশে। তাদের দাবি, বাহরিনে থাকা মার্কিন এবং ইজ়রায়েল ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক রবিবার জানিয়েছে, ইজ়রায়েল এবং মার্কিন যৌথ হামলায় ২০০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় একই সংখ্যক মহিলারও মৃত্যুর খবর মিলেছে। ন’দিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাল তেহরান।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy