এ বারের বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণের আসর বসতে চলেছে তিনটি আলাদা দেশে— আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোয়। গত বারের চ্যাম্পিয়ন লিয়োনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনা কি আরও এক বার বিশ্ব সেরার তকমা অর্জন করতে পারবে? না কি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনবে ষষ্ঠ বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে? অন্য দিকে, লিয়োনেল মেসির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ হলেও, তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর এখনও এই খেতাব রয়ে গিয়েছে অধরা। দেখতে গেলে, মেসি-নেমারদের মতো রোনাল্ডোরও হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে কি তাঁর ইচ্ছাপূরণ হবে? গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
আবার এই লড়াইয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, জার্মানির কাই হাভার্ৎজ় থেকে ফ্রান্সের এমবাপে ও স্পেনের ইয়ামাল-সহ একাধিক ফুটবলার। এঁরা মূলত একক দক্ষতায় ম্যাচ জিতিয়ে বিপক্ষের হাতের মুঠো থেকে ট্রফি ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অংশগ্রহণকারী ছোট-বড় প্রায় সব দেশের অন্য ফুটবলারদের কাছেও একাধিক অস্ত্র মজুত রয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ত্রাস তথা ম্যানচেস্টার সিটি-র আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এবং পেপ গুয়ার্দিয়োলার প্রশিক্ষণে হাতে কলমে তৈরি নরওয়ে দেশের ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের এই বিশ্বকাপ কার্যত স্বপ্নের মতো। ছাব্বিশের বিশ্বকাপের আসরে নেমে তিনি যে দাগ কাটতে পারেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সূর্যোদয়ের দেশ জাপান থেকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফুটবল ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই বার তারাও বিশ্ব ফুটবলের সেরা মঞ্চে চমৎকার কিছু একটা করার জন্য উপস্থিত। ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে এই প্রথম এত দেশ অংশগ্রহণ করতে চলেছে— মোট ৪৮টি দেশের ফুটবলারদের নিয়ে এ যেন স্বপ্নের আসর। হাইতি, উজ়বেকিস্তান, কেপ ভার্দে-র মতো দেশের খেলোয়াড়রা যখন নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এসে উপস্থিত, তখন আমাদের দুর্ভাগ্য, ১৪৫ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারত এখনও মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই এই দুঃখ মনে চাগাড় দিয়ে ওঠে বটে, কিন্তু যখন মেসি, নেমার, রোনাল্ডোরা মাঠে বল নিয়ে দৌড়তে শুরু করেন, তখন এই বাঙালিই আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, বা পর্তুগালে বিভক্ত হয়ে যায়। নিজের প্রিয় দলের জার্সি চাপিয়ে এই বাঙালিই গলি থেকে রাজপথে নেমে পড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা চার পাশে ছড়িয়ে দিতে।
কারণ, বাঙালির যে রক্তেই আছে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা।
সৌরভ সাঁতরা, জগদ্দল, উত্তর ২৪ পরগনা
গিয়ে বিদেশিরা
২০২৫-২৬’এর আইএসএল-এ ইস্টবেঙ্গল এখন ভারতসেরা ক্লাব। সে প্রসঙ্গে ‘সব ক্লাবের সেরা...’ (২২-৫) প্রতিবেদনটি পড়ে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে গর্বিত ও আনন্দিত হলাম। কারণ কলকাতার তিন প্রধান-সহ মোট ১৪টি ক্লাব নিয়ে এ বারের টুর্নামেন্ট অনেক টালবাহানার পর শুরু হয়েছিল। এর আগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দু’বার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়।
যে উদ্দেশ্য নিয়ে আইএসএল শুরু হয়েছিল তা হল— এশিয়ায় বা কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে যাতে ভারতীয় দল বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামো পেয়ে যোগ্যতার সঙ্গে খেলতে পারে। এ ছাড়াও টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড় সন্ধান, ফুটবলে পেশাদারিত্ব আনা আর ফিফা ও এএফসি পর্যায়ে সাফল্য লাভও ছিল লক্ষ্য। ২০১৪ সালে ৮টি দল নিয়ে আইএসএল শুরু হয়, ২০১৯-এ তাকে এএফসি ও ফিফা কর্তৃক ভারতের শীর্ষস্তরের দেশীয় লিগ হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শুরুর এক যুগ পরেও কি সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে? প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দল বিদেশি ফুটবলার-সহ মাঠে দল নামায়। অথচ বাস্তবে যে বিদেশি ফুটবলাররা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন, তাঁরা তাঁদের ফুটবল-দক্ষতার শেষের দিকের অবস্থায় এখানে খেলতে আসেন। তা সত্ত্বেও শারীরিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, বল পাসিং, ড্রিবলিং ও অনুমানক্ষমতার আধিক্যে, ভারতীয়দের থেকে বেশি বয়সি হয়েও তাঁরা ভারতীয়দের ছাপিয়ে যান। তবু আইএসএল-এ বিদেশি-সহ দল গঠিত হয় বলেই ভারতীয়দের মধ্যে সুসংহত ফুটবল খেলতে দেখা যায়। কিন্তু ভারতীয়রা যখন বিদেশিদের ছাড়া অন্য কোনও টুর্নামেন্টে খেলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে আমাদের ফুটবলের তফাতটা কোথায়, স্পষ্ট বোঝা যায়।
স্বরাজ সাহা, কলকাতা-১৫০
কাটল খরা
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। প্যালেস্টাইনি খেলোয়াড় রশিদের গোল সে দিন আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল গ্যালারিতে। ২০০৪ সালে জাতীয় লিগ জিতে ভারতসেরার তকমা অর্জনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষা। জাতীয় লিগ নাম বদলে আই-লিগ হল, তার পর ২০১৪-তে আইএসএল-এর সূচনা। কলকাতার দুই প্রধান মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল আইএসএল-এ যোগ দেয় ২০২০-২১ ফুটবল মরসুমে। অথচ, ১৯২৫ সালে প্রথম দুই দলের লড়াইয়ে নেপাল চক্রবর্তীর গোলে জয়ী বা ১৯৭৫ সালের আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগানকে পাঁচ গোল দেওয়া ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হতাশ করেছে সমর্থকদের। আইএসএল-এর এই জয় অবশ্যই গর্বের ও আনন্দের, কিন্তু এই দলে সৌভিক চক্রবর্তী ছাড়া বাঙালি কোথায়? একদা ছিল বাঙালি ফুটবলারদের রমরমা। এরিয়ান, খিদিরপুর, কুমোরটুলি, রেলওয়ে এফ সি-র মতো ছোট ক্লাবগুলো ছিল ফুটবলার জোগানের আঁতুড়ঘর। এখন বিভিন্ন ক্লাবের কোচিং সেন্টার থাকলেও সে ভাবে ফুটবলার উঠে আসছেন কোথায়? অচ্যুত বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঘা সোম, অমল দত্তের মতো জহুরির অভাব এখন স্পষ্ট। অভাব জ্যোতিষ গুহ, ধীরেন দে-র মতো ক্লাব-অন্তপ্রাণ কর্মকর্তাদেরও। ১৯৫১ ও ১৯৬২-র এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ফুটবল দলে ছিলেন শৈলেন মান্না ও চুনী গোস্বামীর মতো ফুটবলার। ওই টিমেও ছিল বাঙালি ফুটবলারদের রমরমা। সব এখন অতীত। তবে, এত কিছুর মাঝেও মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের লড়াই যতই ঘটি-বাঙালের লড়াই বলে দাগিয়ে দেওয়া হোক, ওই উন্মাদনা মনে করায়, ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’।
দেবাশিস দাস, বোলপুর, বীরভূম
ওভারব্রিজ চাই
ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে স্টেশন রোডে অবস্থিত সাবওয়ে দু’টির পাশে একটি উড়ালপুল খুবই প্রয়োজন। অল্প বৃষ্টিতেই সাবওয়ে দু’টিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। জল বার করার জন্য পাম্প ব্যবহার করা হলেও সম্পূর্ণ জল বার হয় না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে খুবই অসুবিধা হয়। এই জায়গায় একটি উড়ালপুল তৈরি হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।
কালীশঙ্কর মিত্র, ভদ্রেশ্বর, হুগলি
বাস নেই
বর্তমানে শ্যামবাজার থেকে বিধান সরণি হয়ে একটিও সরকারি বাস পরিষেবা নেই। এই রুটে একদা ২, ২বি, ৩৪, এস১৭-র মতো বাস ছিল। এই রাস্তার উপরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, কিন্তু সরকারি বাস না থাকায় অগণিত ছাত্রছাত্রী যাতায়াতের সমস্যায় ভোগেন। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বাগবাজার বা কলকাতা স্টেশন থেকে বিধান সরণি হয়ে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সরকারি বাস পরিষেবা চালু হোক।
রজতশুভ্র মণ্ডলকলকাতা-৬
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)