×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মে ২০২১ ই-পেপার

ট্রাম্পই ভারতের বন্ধু, বার্তা প্রচার রিপাবলিকানদের

সংবাদ সংস্থা
ওয়াশিংটন ১৮ অগস্ট ২০২০ ০২:৩৭
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মাত্র দু’দিন আগেই ভারতের স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে ‘ভারতীয়ত্বের তাস’ খেলতে দেখা গিয়েছিল ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে। এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার আধিকারিকদের গলাতেও শোনা গেল সেই ভারত-প্রেমের সুর। তাঁদের দাবি, ট্রাম্পই প্রকৃত ভারত-বন্ধু।

হাতে আর মাত্র কয়েকটা মাস। আগামী নভেম্বেরই ভোট আমেরিকায়। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটা বড় অংশ ভোট দেবেন সেখানে। দু’দলই এখন তাই ভারতীয়দের কাছে টানার চেষ্টায় ব্যস্ত। সপ্তাহখানেক আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসা নীতিতে যে পরিবর্তন এনেছেন, তা নিয়ে এখন রীতিমতো শঙ্কায় আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়েরা। কিন্তু ট্রাম্পের প্রচার দল বরাবর বলে এসেছে, তারাই ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় বন্ধু। সেই দাবি আরও এক বার করেছেন ‘ট্রাম্প ভিকট্রি ইন্ডিয়ান আমেরিকান ফিনান্স কমিটি’ ও ‘ইন্ডিয়ান ভয়েসেস ফর ট্রাম্প’-এর কো-চেয়ার আল মেসন। তাঁর দাবি, ভারতের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন কখনও কাশ্মীর নীতি নিয়ে নাক গলায়নি। চিনের আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে তারা। মেসনের কথায়, ‘‘ট্রাম্পই হলেন ভারত-আমেরিকার নিবিড় সম্পর্কের মূল যোগসূত্র।’’

একই কথা শোনা গিয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী তথা রিপাবলিকান নেত্রী হরমিত কৌর ঢিল্লোঁর মুখেও। তিনিও বলেছেন, ‘‘ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের পছন্দটা পরিষ্কার। আরও চার বছর ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে থাকা।’’ ট্রাম্পের প্রচার দলের আরও দাবি, অতিমারির আগে ভারতীয়দের বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন হয়েছিল ট্রাম্পের দৌলতেই।

Advertisement

আরও পড়ুন : ১০ গুণ বেশি ছোঁয়াচে! হুঁশিয়ারি মালয়েশিয়ার

তবে ট্রাম্পের প্রচার আধিকারিকেরা মুখে যা-ই বলুন, এখানকার ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটা বড় অংশ কিন্তু কমলা হ্যারিসকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে আমেরিকার ইতিহাসে কমলাই হবেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিজের প্রেসসচিব হিসেবেও আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে বেছেছেন কমলা। ৩২ বছরের সাবরিনা সিংহ এর আগে দুই ‘হাইপ্রোফাইল’ ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁরা হলেন নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ এবং নিউ জার্সির সেনেটর কোরি বুকার। সাবরিনা নিজেও টুইটে জানান সেই খবর। লিখেছেন, কমলার জয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন। চল্লিশের দশকে আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন সাবরিনার দাদু। সেই পরম্পরা এখনও চলছে সাবরিনাদের পরিবারে।

আগামী কাল উইসকনসিনে শুরু হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের চার দিনের মহাসম্মেলন। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে কমলার নাম সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হবে। কমলা তো বটেই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-সহ তাবড় ডেমোক্র্যাট নেতারা ভাষণ দেবেন সেখানে। তবে পুরোটাই হবে ভার্চুয়ালি। অর্থাৎ অনলাইনে। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এখন বড় জমায়েত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। এই সম্মেলনের আগে বাইডেন ও কমলার জয় চেয়ে টেক্সাসের হিন্দু ও শিখ সংগঠনও অনলাইনে একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিল।

Advertisement