কুয়েতে আমেরিকান দূতাবাস সংলগ্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের পরে ধোঁয়া। ছবি: রয়টার্স।
বেশ কিছু দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, ‘‘প্রতিশোধ কেমন হবে তা বুঝতে পারবেন।’’
ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের দাবি, আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। যার জেরে অন্তত ১৬৫ ছাত্রী নিহত। আহত বহু। আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, ‘‘যুদ্ধের কবলে শিশু’’দের অন্তর্ভুক্ত করার।
দুবাইয়ের আল-মিনহাদ বিমানঘাঁটির কাছে হামলা চালিয়েছিল ইরান। সেখানে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার আধিকারিক ও কর্মীরা নিরাপদে আছেন বলে দাবি অস্ট্রেলিয়ার।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সৌদির রাজধানী রিয়াধের একটি মার্কিন দূতাবাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, দু’টি ড্রোন পাঠিয়ে এই হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরান সরকারের বিভিন্ন যোগাযোগকেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল বাহিনী।
আমেরিকার পক্ষ থেকে আমেরিকার নাগরিকদের দেশে ফিরতে বলা হয়েছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইরান, ইরাক, ইজ়রায়েল, ইজ়িপ্ট, কাতার, আরব, কুয়েত-সহ বিভিন্ন দেশ ছেড়ে দেশে ফেরার জন্য।
আমেরিকার প্রেসিডন্ট দাবি করেন, তিনি যদি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ইরানের পারমানবিক চুক্তি বাতিল না করতেন তবে তিন বছর আগেই পারমানবিক বোমা তৈরি করে ফেলত ইরান।
জর্ডানের রাজধানী আম্মানের একটি দূতাবাস থেকে আধিকারিক ও কর্মীদের সরিয়ে নিল আমেরিকা। জানানো হয়েছে ‘হুমকি’ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার জন্যই এই পদক্ষেপ, তবে তা সাময়িক।
ইরান এ বার প্রশ্ন তুলল কুয়েতের কাছে। চাইল ব্যাখ্যা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী তথা কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি জানান, কুয়েত আগেই জানিয়েছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে কাউকে কুয়েতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাঁর প্রশ্ন, তা হলে কী করে আমেরিকার তিনটি যুদ্ধবিমান আকাশে উড়ল কী করে? তাঁর দাবি ওই বিমানগুলি ‘ভুলবশত’ কুয়েত সেনা মাটিতে নামিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কুয়েত সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ইরান।
হাসপাতালের কাছে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা করার অভিযোগ তুলেছে ইরানের স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্তা। ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ হানায় রোগীদের মধ্য়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দাবি করে পৃথিবীর সমস্ত দেশের মানুষকে ‘জোট’ বাঁধার আহ্বহান জানিয়েছেন তিনি।
ইজ়রায়েল সেনাবাহিনীর দাবি, তেহরানের একাধিক সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগের কার্যলয়ে আঘাত হানা হয়েছে। দাবি, অন্তত ১০টি ইরানি গোয়েন্দা কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ইরান যুদ্ধ করছে না। তাঁর দাবি, প্রতিবেশী দেশ নয়, ওই সব দেশে থাকা আমেরিকার সেনাঘাঁটিগুলিই ইরানের লক্ষ্য। আমেরিকার উপর চাপ দেওয়ার জন্য পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সামরিক সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করল।
পাকিস্তানের আমেরিকার দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে জারি থাকছে জরুরি পরিষেবা। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই এই পদক্ষেপ। প্রসঙ্গত, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে পাকিস্তানে ‘প্রাণঘাতী’ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাহাবিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সে দেশের মার্কিন দূতাবাসগুলির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানে অভিযানের সময় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জন আমেরিকার সেনার। তেহরানের প্রত্য়াঘাতে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ওই দুই জওয়ানের দেহ।
সমাজমাধ্যমে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ওমান সাগরে মাত্র দু’দিন আগেও ১১টি নৌবহর ছিল। মার্কিন সেনা অভিযানের পরে সেখানে এখন একটাও সামরিক নৌ-যান নেই। আমেরিকার দাবি, আন্তর্জাতিন জাহাজ চলাচলের সময়ে ইরানের নৌবাহিনী অকারণে অন্যান্য দেশের জাহাজকে হয়রানি ও আক্রমণ করত । সোমবারের পরে সেই ‘সঙ্কট’ আর নেই।
ইরানের যাতে পারমাণবিক ক্ষমতা না থাকে তার জন্য প্রযোজনীয় সমস্ত কিছু করা হবে। জারি থাকবে অভিযান। রাষ্ট্রপুঞ্জে এমনটাই দাবি করলেন ইজ়রায়েলের দূত। তাঁর দাবি, ‘‘ইরানের জনগণের স্বাধীনতা আসন্ন’’। সে দেশের নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে ইজ়রায়েল বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ইরানে ‘শান্তি’ ফেরানোর লক্ষ্যে আগামী প্রায় পাঁচ সপ্তাহ অভিযান চলবে। সেই সময়সীমা বাড়তেও পারে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ইরানে বড় ধরনের হামলা অবশ্যম্ভাবী।’’ তাঁর দাবি, আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতার মৃত্যুর পরে সে দেশে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-তে ইরানের হামলায় তিনি ‘আশ্চর্য’ হয়েছেন বলেও দাবি করেন। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ তাঁর প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, পরিস্থিতির সামাল দিতে ইরানে এ বার আমেরিকার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।
কাতারে আগেও হানা দিয়েছে ইরানের ড্রোন। ফের ইরানি ড্রোনের হানা কাতারের রাজধানী দোহাতে। শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ।
সোমবার ইরানের বেশ কয়েকটি ড্রোনকে ধ্বংস করে মাটিতে নামিয়েছিল কাতারের সেনাবাহিনী। তার পরেও শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ।
সোমবার বাহরিনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতের হামলা চালিয়েছে ইরান। সদ্যনিহত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের অনুগামীদের মরণপণ প্রতিরোধ দেখে সামরিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই পূর্বাভাস দিয়েছেন আমেরিকা-ইজ়রায়েল যৌথবাহিনীর পক্ষে ইরানকে সহজে পরাস্ত করা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদপত্র ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চালাতে হতে পারে।’’ সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রয়োজনে আমেরিকা আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy