আবার কি ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ শুরু করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? আমেরিকার এক সরকারি নথি থেকে মিলল তেমনই ইঙ্গিত। সেই নথি অনুযায়ী,বলপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত ৬০টি দেশের উপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। শুল্কের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
বুধবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) প্রকাশিত নথি অনুসারে, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, ব্রিটেনের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে। এ ছাড়াও, ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজ়িল, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দেশের উপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে এ-ও জানানো হয়েছে, এখনই এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। জনমত এবং পর্যালোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা সাপেক্ষে পদক্ষেপ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ (খ) (১) ধারার অধীনে আমেরিকা তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তার কয়েক মাস পরই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এল। কেন এই পদক্ষেপ, তা-ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে সরকারি নথিতে। উদ্দেশ্য হল,বলপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে তৈরি করা পণ্যের আমদানি আটকানো। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশ কোনও পদক্ষেপ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরই নতুন শুল্কনীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, আমেরিকাও সেই পরিমাণ শুল্ক আদায় করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির থেকে। এই নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলে। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আইইইপিএ আইনের আওতায় ওই শুল্ক আরোপের অনুমোদন নেই। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কর এবং আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। যদিও কংগ্রেস চাইলে সেই ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে অর্পণ করতে পারে। এর ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। নতুন শুল্কনীতিও আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরে বিকল্প পরিকল্পনা শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।