Advertisement
E-Paper

ইরানের বিলবোর্ডে ‘সবল’ মহিলারা

কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এত ঢক্কানিনাদই সার। মহিলাদের অধিকার বাড়ানোর জন্য কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কিছু দিন আগেই এখানে এক মহিলা হিজাব আইনের প্রতিবাদ জানাতে প্রকাশ্যে হিজাব খুলে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁকে দু’বছরের জন্য জেলে পাঠাতে দেরি করেনি প্রশাসন।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৩৬
বিলবোর্ডে গণিতজ্ঞ মরিয়ম। টুইটার

বিলবোর্ডে গণিতজ্ঞ মরিয়ম। টুইটার

শহরের কোনও প্রান্তের বিলবোর্ডে সেনা অফিসারের ছবি। কোথাও যুদ্ধের চিত্রগ্রাহক। কোথাও অলিম্পিক্সজয়ীর মুখ। প্রত্যেক ছবিই কোনও না কোনও মহিলার। দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তাঘাটে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল মহিলাদের এ ভাবেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ‘রক্ষণশীল’ দেশটিতে।

২০১৪ সালে ফিল্ডস মেডেল জিতেছিলেন এ দেশের মহিলা-গণিতজ্ঞ মরিয়ম মিরজাখানি। অঙ্কে নোবেলের সমতুল এই পুরস্কার সেই প্রথম পেয়েছিলেন কোনও মহিলা। ২০১৭ সালে মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। মরিয়মের মুখ এখন বিলবোর্ড জুড়ে। এই রকম আরও অনেকেই আছেন। চিত্রশিল্পী, খেলোয়াড়, বিজ্ঞানী— এমন বহু বিশিষ্ট মহিলা। ছবিতে কারও কারও মাথা কালো পর্দায় ঢাকা। কেউ আবার ইসলামি পোশাক পরেননি। ছবিতে উল্লেখযোগ্য মুখের মধ্যে আছেন শাহলা রিয়াহি, ইরানের প্রথম মহিলা পরিচালক। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ছবি তুলেছিলেন আর এক মরিয়ম। তিনি মরিয়ম কাজেমজাদে, ইরানের প্রথম যুদ্ধ-চিত্রগ্রাহক— আছে তাঁরও মুখ। আছেন মার্জেই হাদিদ চি, ‘ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর’-এর প্রথম মহিলা কম্যান্ডার। নারী-অধিকার রক্ষার আন্দোলনে পরিচিত নাম মার্জেই পরে এমপি-ও হয়েছেন। আধুনিক ইরান নিয়ে গবেষণা করে প্রথম মহিলা শিক্ষাবিদ হিসেবে উঠে আসেন নুসরত আমিন। আছেন তিনিও। ছবিতে আছেন ইরানের আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথিকৃৎ আলেনুশ তেরিয়ান। প্রথম মহিলা সাংবাদিক মরিয়ম আমিদ-সেমনানিও জায়গা করে নিয়েছেন বিল-বোর্ডে। ১৯১৩ সালে মহিলাদের দৈনিক ‘ব্লসম’ চালু করেছিলেন তিনি।

কী ভাবে শুরু হল এই উদ্যোগ? জানা যাচ্ছে, গত বছর তেহরানের মেয়র হিসেবে যিনি নির্বাচিত হন, তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে এর পিছনে। তিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে উঠে এসেছিলেন তেহরানে। এর আগে প্রশাসনে রক্ষণশীল লোকজনকেই দেখা গিয়েছে। সে সময়ে মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে এত প্রচার ভাবাই যেত না, বলছেন প্রশাসনের অন্দরেরই লোকজন। তবে এখন সফল মহিলাদের মুখ শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশংসা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তেহরানের এমপি ফাতেমে সইদি বলছেন, এই প্রচারে ভাল হচ্ছে। তেহরান পেরিয়ে অন্য শহরেও মহিলাদের এ ভাবে প্রচারের আলোয় আনার দাবি উঠছে। আশা, এতে মহিলারাই অনুপ্রাণিত হবেন।

কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এত ঢক্কানিনাদই সার। মহিলাদের অধিকার বাড়ানোর জন্য কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কিছু দিন আগেই এখানে এক মহিলা হিজাব আইনের প্রতিবাদ জানাতে প্রকাশ্যে হিজাব খুলে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁকে দু’বছরের জন্য জেলে পাঠাতে দেরি করেনি প্রশাসন।

যে গণিতজ্ঞ মরিয়ম মিরজাখানিকে নিয়ে এখন এত হইচই করা হচ্ছে, তাঁকে এক সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন এক জন। এই মরিয়ম আমেরিকায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরিচিতি পান। ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি জানাচ্ছেন, মরিয়ম যদি থেকে যেতেন, হিজাব আইন না মানলে শিক্ষকতার সুযোগটাই তো পেতেন না!

Iranian Billboard
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy