Advertisement
২৭ নভেম্বর ২০২২
Surgery

মাতৃগর্ভেই হার্ট সার্জারি, নজির গড়লেন কানাডার চিকিৎসকেরা

কানাডার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হ্যাভিল এবং ক্রিস্টিন বেরির প্রথম সন্তান সেবাস্টিয়ান। যে জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল সে, ডাক্তারি পরিভাষায় তার নাম ট্রান্সপোজিসন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ)। এই রোগে হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত সঞ্চালন এক রকম বন্ধই হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন, জন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

মা বাবার সঙ্গে সেবাস্টিয়ান

মা বাবার সঙ্গে সেবাস্টিয়ান

সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৭ ১৯:১১
Share: Save:

হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যা নিয়ে মাতৃগর্ভেই ধুকপুক করছিল একটা প্রাণ। জন্মের পর শিশুকে বাঁচানো যাবে না বলে জানিয়েই দিয়েছিলেন চিকিত্সকরা। কারণ ছোট্ট হৃদযন্ত্রটি দেহে এবং মাথায় ঠিক মতো রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে অক্ষম। গায়ের রঙ হবে নীল। জন্মাবে বোবা হয়েও। কিন্তু সময় নষ্ট না করে জন্মের আগেই অস্ত্রোপচার করতে পারলে বাঁচানো যেতে পারে বলে মনে হয়েছিল চিকিত্সকদের। আর সেই ভাবনা থেকে, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই হল হার্টের অস্ত্রোপচার। সুস্থ জীবন নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখল সেবাস্টিয়ান। মাতৃগর্ভে এই ভাবে অস্ত্রোপচারের নজির বিশ্বে প্রথম।

Advertisement

আরও পড়ুন: গাছে জল দিচ্ছেন দেড় বছর আগে মৃত মা!

আরও পড়ুন: গাছে জল দিচ্ছেন দেড় বছর আগে মৃত মা!

কানাডার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হ্যাভিল এবং ক্রিস্টিন বেরির প্রথম সন্তান সেবাস্টিয়ান। যে জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল সে, ডাক্তারি পরিভাষায় তার নাম ট্রান্সপোজিসন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ)। এই রোগে হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত সঞ্চালন এক রকম বন্ধই হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন, জন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। মেডিক্যাল টিম গঠন করে মাতৃগর্ভেই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জটিল এই অস্ত্রোপচারের নাম আট্রিয়াল সেপ্টোপ্লাস্টি। মা’র গর্ভে একটি সুচ ঢুকিয়ে আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে শিশুর হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করেন চিকিৎসকেরা। সুচের শেষ প্রান্তে লাগানো থাকে একটি ছোট বেলুন।

Advertisement

কী ভাবে হল সেই বিরল অস্ত্রোপচার? কী জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

কী ভাবে হল সেই বিরল অস্ত্রোপচার? কী জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

এই পদ্ধতিতে শিশুটির হার্টের আট্রিয়াল সেপটামে ৩.৫ মিলিমিটারের একটি ছিদ্র করে পাম্পিং-এর সাহায্যে সেখানে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ চালু করেন চিকিৎসকেরা। সেটা গত ১৮ মে-র কথা। তার পর ২৩ মে জন্ম হয় সেবাস্টিয়ানের। জন্মের পর ফের একবার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এবং নবজাতক এখন ভালই আছে।

সেবাস্টিয়ানের মা ক্রিস্টিয়ানের কথায়, ‘‘রোগ যখন ধরা পড়ে, মনে হয়েছিল গোটা পৃথিবীটাই আমার কাছে অন্ধকার হয়ে এসেছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা যা করেছেন তা দারুণ।’’ মেডিক্যাল টিমে থাকা একজন কার্ডিওলজিস্টের কথায়, ‘‘মাতৃগর্ভে প্রথম এই পদ্ধতিতে আমরা অস্ত্রোপচার করি। বিশ্বাস ছিল সব কিছুই ভাল হবে। হলও তাই। যা ভাবা হয়েছিল তার থেকে অনেক সহজে এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.