শুল্ক যুদ্ধে আমেরিকার বিরুদ্ধে সুর চড়াল বেজিং। চিনের স্টেট কাউন্সেলর এবং বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বক্তব্য, সম্প্রতি আমেরিকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন বেশ কিছু মন্তব্য এবং পদক্ষেপ করেছে, যাতে চিনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে চিনের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা তৈরিও। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে বিষয়টি ‘আর বেশি দূর টেনে না-নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলেছেন ই। 

নভেম্বর থেকে আলোচনা চলার পরে সম্প্রতি ফের ২০,০০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নতুন করে শুল্ক বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৩২,৫০০ কোটি ডলারের পণ্যেও। পাল্টা হিসেবে চিনও ৬,০০০ কোটির মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছে। তার উপরে গত সপ্তাহেই চিনের হুয়েই-সহ বিভিন্ন টেলি সংস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই অবস্থায় মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেওর সঙ্গে সম্প্রতি ফোনে কথা বলেন ই।

সেখানে তাঁর দাবি, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক সঙ্গে কাজ করলে দু’দেশের পক্ষেই ভাল। কিন্তু উল্টোটা হলে বিপদ। যে কারণে পরস্পরের মধ্যে সমঝোতার জন্য আলোচনার রাস্তা বেছে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে ই। এর আগেও মার্কিন শুল্কের মুখে পড়ে বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছিল বেজিং। যদিও বৈঠকে চিনই শর্ত ভেঙেছে বলে অভিযোগ আমেরিকার।

এ দিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে আমেরিকায় হুয়েইয়ের ব্যবসা ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংস্থা কারও সামনে মাথা নোয়াবে না বলে জানিয়েছেন হুয়েইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও রেন ঝেংফেই। তিনি বলেন, মার্কিন যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরতা কমাবে সংস্থা। ইতিমধ্যেই সেই পথে এগোনোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হুয়েইকে কালো তালিকাভুক্ত করলেও, তাদের উপরে চাপানো কিছু নিষেধাজ্ঞা আমেরিকা শিথিল করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।