পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতে মূল্যবৃদ্ধির হারকে ঠেলে তুলে সাধারণ মানুষকে আরও বিপাকে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছিল। সকলের চোখ ছিল মার্চের হিসাবে। সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা গেল, খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার সত্যিই বেড়েছে। তবে সামান্য। গত মাসে আগের বছরের মার্চের তুলনায় তা হয়েছে ৩.৪%। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩.২১%। মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েছে খাদ্যপণ্যেরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিসাব আশঙ্কাজনক নয় বটে। তবে মাথা তোলার এই প্রবণতা চিন্তার। আগামী দিনে বাড়বে বই কমবে না।
তাঁদের একাংশের দাবি, আশঙ্কা মিলিয়েই ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক আঁচ এসে পড়েছে ভারতের খুচরো বাজারে। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল দামি হওয়ায় দেশেও বেড়েছে একাধিক জ্বালানির দর। তার উপর কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়ছে। ফলে খাদ্যপণ্য-সহ অনেক খাতে খরচ বেশি হচ্ছে ক্রেতার।কেউ কেউ বিশেষত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকেও দায়ী করছেন।
অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীর দাবি, ‘‘মূল্যবৃদ্ধির কারণ— এক, গরম পড়ায় কিছু আনাজের দাম বৃদ্ধি। দুই, যুদ্ধের প্রাথমিক প্রভাব। যে কারণে রান্নার গ্যাসের দাম চড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও বেশি হবে। আমদানি করা তেলের দাম বৃদ্ধির ছেঁকা বেশি দিন ঢেকে রাখা কঠিন।’’ পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলছেন, ‘‘এখনও পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। অন্যতম কারণ ভোট। কিন্তু যুদ্ধ চললে বাড়বে।’ সংশ্লিষ্ট সকলেই মনে করছেন, আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি আরও মাথা তুলবেই। তবে কতটা, তা নির্ভর করবে যাবতীয় জটিলতায় দাঁড়ি টেনে হরমুজ় প্রণালী কত দ্রুত খুলে দেওয়া হচ্ছে তার উপর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)