পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কেলেঙ্কারির জেরে আরও চার জনকে রবিবার গ্রেফতার করল সিবিআই। এঁদের মধ্যে রয়েছেন, মামা-ভাগ্নে নীরব মোদী-মেহুল চোক্সীর বিভিন্ন সংস্থার দু’জন অফিসার, এক জন অডিটর ও এক জন ডিরেক্টর। এ দিকে মোট ৬৪টি সংস্থা ও ব্যক্তির সম্পদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)। ১২,৭০০ কোটি টাকার এই প্রতারণার তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নীরব মোদীর ফায়ারস্টার ডায়মন্ডের তদানীন্তন এজিএম অপারেশন্স মণীশ কে বোসাম্য ও তদানীন্তন ফিনান্স ম্যানেজার মিতেন অনিল পাণ্ড্য। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাল লেটার অব আন্ডারটেকিং (এল ও ইউ)-এর আবেদনপত্র তৈরিতে সহায়তা। ওই সব এলওইউ বা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টিই জমা দেওয়া হয় পিএনবিতে।

সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েছেন অডিটর সঞ্জয় রম্ভিয়া, যিনি মুম্বইয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম সম্পৎ অ্যান্ড মেটা-র পার্টনার। পাশাপাশি, মেহুলের সংস্থা গিলি ইন্ডিয়ার তদানীন্তন ডিরেক্টর অনিয়ত শিব রামন নায়ারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। অভিযোগ, এলওইউ-র বিভিন্ন আবেদনপত্রে সই করেন তিনি।

এক ঝলকে

• নীরব-মোদী, মেহুল চোক্সীর বিভিন্ন সংস্থার দু’জন অফিসার, এক জন অডিটর ও এক জন ডিরেক্টর সিবিআইয়ের জালে

• সম্পদ বিক্রিতে এনসিএলটি-র নিষেধাজ্ঞার আওতায় নীরব-মেহুল, তাঁদের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্র্যান্ড

• তালিকায় গীতাঞ্জলি জেম্‌স, গিলি ইন্ডিয়া, নক্ষত্র, ফায়ারস্টার ডায়মন্ড, সোলার এক্সপোর্টস, স্টেলার ডায়মন্ড

• পিএনবি কাণ্ডে সে দেশে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তি, সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মরিশাস

পিএনবি-র সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা দেশে-বিদেশে ইস্যু করা বিভিন্ন এলওইউ-র তথ্য সফটওয়্যারে তোলেননি, যাতে নজরদারি এড়ানো যায়।

আরও পড়ুন: নীরব, মেহুলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

এ দিকে, কেন্দ্রীয় কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এক ঘোষণায় আর্জি জানিয়েছিল, মোদী, তাঁর মামা মেহুল চোক্সী, তাঁদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সম্পদ কেনাবেচা করতে পারবে না। কোম্পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী এনসিএলটি-তে এই আর্জি জানায় তারা, যা শুনানির জন্য সম্প্রতি ওঠে এনসিএলটি-র মুম্বই বেঞ্চে। সেই অনুসারেই এনসিএলটি এই নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৪ ব্যক্তি ও সংস্থা এর আওতায় পড়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সংস্থার মধ্যে রয়েছে গীতাঞ্জলি জেম্‌স ও তার গিলি ইন্ডিয়া, নক্ষত্রের মতো ব্র্যান্ড, নীরব মোদীর ফায়ারস্টার ডায়মন্ডের হাতে থাকা সম্পদ। বিভিন্ন অংশীদারি সংস্থার মধ্যে রয়েছে সোলার এক্সপোর্টস ও স্টেলার ডায়মন্ড। এ ব্যাপারে পরবর্তী শুনানি ২৬ মার্চ। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে হবে সবাইকে। হাজিরা না দিলে একতরফা শুনানি নেওয়া হবে।