ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যে স্বল্প আয়ের দেশের দুর্ভোগই সব থেকে বেশি বাড়াচ্ছে, সেই বার্তা আগেও মিলেছে। আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) যৌথ ভাবে সতর্কবার্তা জারি করে জানাল, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্বে জ্বালানি ও সারের দামকে বাড়িয়ে রাখতে পারে। ফলে স্বল্প আয়ের দেশগুলি তা কিনতে গেলে বিপাকে পড়বে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে দামের স্বাভাবিক হতে বহু সময় লেগে যাবে।
তিন সংস্থারই দাবি, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেও জ্বালানি ও সারের দর খুব সহজে আগের জায়গায় ফিরবে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিক্রেতারা এত লোকসানে ডুবেছে যে, দাম সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ে নামতে সময় লাগবে। সারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ায় কৃষি ফলন ব্যাহত হতে পারে। যা বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৪.৫ কোটি মানুষকে তীব্র খাদ্য সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেবে।
এই সঙ্কটের প্রভাব সব দেশে সমানভাবে পড়বে না বলেও জানিয়েছে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আইইএ। তাদের দাবি, বিশ্বে মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়তে পারে। ২০২৬-এ উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থিক বৃদ্ধি নামতে পারে ৩.৬৫ শতাংশে। মূলত নিম্ন আয়ের ও জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলির চড়া মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে।
আইএমএফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি যুঝতে ২০০০-৫০০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দরকার হতে পারে। বিশ্ব বাজারে যাতে অস্থিরতা আরও না বাড়ে, সে জন্য সমস্ত দেশকে জ্বালানি মজুত করা ও রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ থেকে বিরত থাকাতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)