আমেরিকার চাপানো চড়া শুল্ক এবং তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কথা এগোনো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এ বার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা শেষ করার পথে ভারত। প্রায় ১৮ বছর ধরে আলোচনা চলার পরে আগামিকাল, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তা শেষের ঘোষণা হতে পারে। আজ, প্রজাতন্ত্র দিবস এবং তার পরে ভারত-ইইউ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি এসেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়ো লুই সান্তোস ডি কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা তাঁদের। তার পরেই সেই ঘোষণা হতে পারে। তবে চুক্তি সই ও তা কার্যকর হবে চূড়ান্ত শর্ত ইইউ ও ভারত খতিয়ে দেখার পরে। দুই পক্ষেরই দাবি, এই চুক্তি হতে চলেছে ‘সবার সেরা’। যার অধীনে বিনা বা কম শুল্কে বাণিজ্য হতে পারে ৯৭%-৯৯% পণ্যের।
ইউরোপ ভারতের অন্যতম বড় বাজার। তাই একে পাখির চোখ করছে মোদী সরকার। তারা চায়, আমেরিকার ৫০% শুল্কে যে ধাক্কা লাগছে, ব্রিটেন, ইইউ-র সঙ্গে রফতানি বাড়িয়ে তা কিছুটা সামলাতে। এ ক্ষেত্রে তারা জোর দিচ্ছে বস্ত্র, তাঁত, চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো শ্রম নির্ভর ক্ষেত্রে। আর ইউরোপের নজর ওয়াইন, গাড়ি, উন্নত প্রযুক্তির পণ্য এ দেশে পাঠানোয়। তবে ইইউ গোমাংস, চিনি বা চালের বাজারকে যেমন ভারতের জন্য খুলতে আগ্রহী নয়, তেমনই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে বাইরের দেশের প্রবেশ চায় না নয়াদিল্লিও। তাই কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য থাকছে চুক্তির বাইরে।
ভারতে এসেছেন ইইউ-এর ট্রেড কমিশনার মারোস সেফকভিচ-ও। রবিবার তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের বার্তা, ইইউ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও কৌশলগত সহযোগী। দু’পক্ষের শিল্প মহল এবং মানুষের কথা মাথায় রেখেই জোট বেঁধে কাজে আগ্রহী তাঁরা। আর মারোসের দাবি, এই চুক্তি সম্পূর্ণ হলে ভারত-ইউরোপকে আর চিন ও আমেরিকার উপরে ততটা নির্ভর করতে হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)