ছ’বছরের মধ্যে একটি ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন। দেশে বেকারত্বের হার ৪৫ বছরে সর্বাধিক। গাড়ি থেকে বিস্কুট, নানা শিল্পে বিপুল কর্মী ছাঁটাই। দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়েছে বলে বিরোধীরা বার বার তোপ দাগলেও তা মানতে নারাজ কেন্দ্র। বাজেটের পরে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তিন দফা দাওয়াই ঘোষণা করলেও সংশয় কাটেনি। অবশেষে শুক্রবার তাঁর চতুর্থ দাওয়াইতে কর্পোরেট কর হ্রাসের সিদ্ধান্তকে শিল্প মহল ও বিশেষজ্ঞদের কেউ বলছেন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক মনোভাব কাটাতে মরীয়া কেন্দ্রের একেবারে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা কঠোর পদক্ষেপ। কারও মতে, গত ২৮ বছরের মধ্যে কঠিন সময়ে সাহসী ও নজিরবিহীন। এর ফলে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া সম্ভব কি না তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এতে কি চাহিদা বাড়বে?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মুখে অর্থনীতির সঙ্কট নেই বলে দাবি করলেও নানা পরিসংখ্যানে তা ফুটে উঠেছে। নির্মলার এ দিনের সিদ্ধান্ত যে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ওড়াতে মরিয়া পদক্ষেপেরই ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট বিশেষজ্ঞদের কথাতেও। স্যামকো সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড স্টকনোটের সিইও জিমিত মোদী বলেছেন, ‘‘এটা আর একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।’’ এপিক রিসার্চের সিইও মুস্তাফা নাদিমের মতে, এত দিন করা পদক্ষেপের মধ্যে কর কমানোর সিদ্ধান্তই সব চেয়ে বড়। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, সমস্যা অনেক বেশি গভীর হলে তবেই এ রকম কড়া দাওয়াইয়ের প্রয়োজন হয়। 

জিয়োজিৎ ফিনান্সিয়ালের অর্থনীতিবিদ দীপ্তি ম্যাথুর সতর্কবার্তা, ‘‘বৃদ্ধির শ্লথগতিতে কেন্দ্র রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা না-ও ছুঁতে পারে।’’ যদিও নির্মলার দাবি, তাঁরা সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন। সেই মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। 

তবে এই সিদ্ধান্তে শিল্প যে ভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, তাতেও স্পষ্ট দেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ক্ষত কতটা গভীর। যেমন এই সিদ্ধান্ত ২৮ বছরের মধ্যে সম্ভবত সাহসী সংস্কারের পদক্ষেপ বলে মত স্টেট ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান রজনীশ কুমারের। সিআইআইয়ের প্রেসিডেন্ট বিক্রম কির্লোস্কর, বায়োকনের চেয়ারম্যান কিরণ মজুমদার শ’, হিন্দুজা গোষ্ঠীর কো-চেয়ারম্যান গোপীচাঁদ পি হিন্দুজা, স্পাইসজেটের এমডি অজয় সিংহ প্রমুখের মতে, এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন ও বড় সমস্যার দাওয়াই। এর ফলে লগ্নির পথ খুলবে। বণিক সভা ফিকি-র মতে, কঠিন সময়ে এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন শিল্পকে নতুন প্রাণ জোগাবে। এর আগে গাড়ি-সহ শিল্পের একাংশ  উৎপাদনমুখী শিল্পের ঝিমুনির কথা স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছে। 

কোটাক মহীন্দ্রা ব্যাঙ্কের সিইও উদয় কোটাক ও আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার মতে, কর কম এমন দেশের সঙ্গে দেশীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতায় পাল্লা দেওয়া সহজ হবে। যদিও সহায়ক পরিবেশ ও নীতি তৈরি না করে শুধুমাত্র কর কমিয়েই কতটা বিদেশি লগ্নি আকর্ষণ করা সম্ভব, সেই প্রশ্নও উঠছে। ঋণের বোঝায় ন্যূব্জ টেলিকম শিল্পমহল নির্মলার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও একই সঙ্গে বলেছে, তাদের সমস্যা কাটানোর ওযুধ মেলেনি।