দেশে যে সমস্ত শহরে নতুন আবাসনের দাম এখনও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে কলকাতা। আগে রয়েছে শুধু আমদাবাদ। আবাসন উপদেষ্টা নাইট ফ্র্যাঙ্কের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যেখানে এই দুই শহর ছাড়াও পুণে ও চেন্নাই প্রথম চারে জায়গা পেয়েছে, সেখানেই দিল্লি ও মুম্বইয়ে আবাসন আর সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই।
মাসিক আয়ের কতটা গৃহঋণের কিস্তিতে খরচ হয়, তা দিয়েই মূলত সাধ্য-সূচক (অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স) হিসাব করা হয়। এই হার যত কম হয়, ততই আবাসনের দাম সাধ্যের মধ্যে। নাইট ফ্র্যাঙ্ক জানিয়েছে, আমদাবাদে তা ২৩%, কলকাতায় ২৫% ও পুণেতে ২৮%। আর দিল্লি ও রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় এই হার ৬৭%, মুম্বইয়ে ৬৯%। অর্থাৎ, এই সব শহরে মানুষের আয়ের অধিকাংশই চলে যায় কিস্তি দিতে।
উপদেষ্টার দাবি, তবে বছর দশেক আগে আয়ের নিরিখে কিস্তির ভাগ ছিল আরও অনেক বেশি। যেমন, কলকাতায় ২০১৬ সালে ছিল ৪৭%। তার পরে সুদ বেশ খানিকটা কমায় এখন আবাসন সাধ্যের মধ্যে এসেছে। অথচ দিল্লি-মুম্বইয়ে ফ্ল্যাট-বাড়ির দাম বিপুল হারে বেড়েছে। ফলে সেখানে দাম সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলেরও বক্তব্য, কলকাতার তুলনায় দিল্লি বা মুম্বইয়ের আবাসনের দাম তিন-চার গুণ বেশি। ক্রয় ক্ষমতা ও মোট আবাসন বিক্রির নিরিখেও পিছিয়ে এই শহর। ফলে নির্মাতারাও এখানে কম দামি আবাসনে বেশি নজর দেন। এই শিল্পের সংগঠন ক্রেডাইয়ের বক্তব্য, চার-পাঁচ বছর ধরে আবাসনের সাধ্য-সূচক প্রায় একই আছে। সুদ আরও না কমলে অথবা বেতন তথা ক্রয় ক্ষমতা না বাড়লে তা পাল্টানো মুশকিল। আর চাহিদা বৃদ্ধির জন্য আবাসনের পিছনে খরচের বোঝা কমা জরুরি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)