গ্রাহকদের সুখনিদ্রা বেচতে গিয়ে নিজেদেরই ঘুম উড়েছে সংস্থার। ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হল মার্কিন স্মার্ট বিছানা প্রস্তুতকারক সংস্থা স্লিপ নম্বর। সহজে পরিবর্তনযোগ্য ও উন্নত মানের ম্যাট্রেস তৈরির জন্য পরিচিত স্লিপ নম্বর। আর্থিক সঙ্কটের কারণে দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কানাডার ‘স্লিপ কান্ট্রি’র কাছে ৪১.৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে, যা তাদের ব্যবসায়িক পুনর্গঠনেরই একটি অংশ।
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে সদর দফতর রয়েছে সংস্থার। ২,৯২০ জন কর্মী কাজ করেন সংস্থায়। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে মে মাসে দাখিল করা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে তাদের মোট বিক্রয় ছিল ৩১.৯ কোটি ডলার এবং মোট লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ডলার। সংস্থাটি ঘাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা তাদের পক্ষে আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি সম্প্রতি ন্যাশনাল ফুটবল লীগের তারকা ট্র্যাভিস কেলসির সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক চুক্তিও সেরেছিল স্লিপ নম্বর।
দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করার আগে স্লিপ নম্বার তাদের ব্যবসা এবং আর্থিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। বার বার ঋণ নিয়েও লাভ হয়নি। লোকসানে চলা শো-রুমও বন্ধ করে দিয়েছিল সংস্থা। শেষ পর্যন্ত ৬৭.২ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং মুদ্রাস্ফীতিকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। ‘অনিশ্চিত’ শুল্ক নীতি সংস্থা স্মার্ট বেড ও ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেছে সংস্থা। এর ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে এবং মুনাফার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।