বিরোধীদের তোপ, মোদী সরকারের জমানায় দেশে কর্মসংস্থানের হাল বেশ খারাপ। উল্টো দিকে কেন্দ্রের দাবি, চাকরির বাজারের ছবি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কিন্তু বৃহস্পতিবার কলকাতায় অর্থনীতিবিদ মেঘনাদ জগদীশচন্দ্র দেশাইয়ের দাবি, এ সব নিয়ে তর্ক-বিতর্কে নামার আগে কাজ গোনার সঠিক পরিসংখ্যান জরুরি। ভারতে সেই নির্ভুল সংখ্যা কোথায়! তিনি বলেন, এ দেশে পরিসংখ্যানের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, কার দাবি কতটা সঠিক তা নিয়েই রয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন। অবিলম্বে এর উন্নতির পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

এর আগে সঠিক তথ্যের অভাবে অর্থনীতিতে নোটবন্দি ও জিএসটি ধাক্কার অভিঘাত মাপা সহজ নয় বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও।

এ দিন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) ৫৩তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের এমেরিটাস অধ্যাপক দেশাই। পরে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গে টেনে আনেন পরিসংখ্যান ক্ষেত্রের দুরবস্থার কথা। বলেন, ২০ বছর ধরে ৭% বা তার বেশি বৃদ্ধি যথেষ্ট আশাব্যাঞ্জক। কর্মসংস্থান না হলে তা ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা অনেকটা বাড়তে হতো। অথচ তা হয়নি। দেশাইয়ের কথায়, ‘‘ফলে দেশে কাজের সুযোগ অবশ্যই তৈরি হয়েছে। কিন্তু কতটা, তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না।’’ অর্থনীতির সঠিক পূর্বাভাসের জন্য বা পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয় এড়াতেও পরিসংখ্যানকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দক্ষ নীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরেন দেশের মুখ্য পরিসংখ্যানবিদ প্রবীণ শ্রীবাস্তবও। সেগুলির বিশ্লেষণের নতুন পদ্ধতির জন্য উদ্যোগী হওয়ার ডাক দিয়েছেন পড়ুয়াদের। আর সমাবর্তনের গোড়ায় পড়ুয়াদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়েছেনআইএসআইয়ের প্রেসিডেন্ট বিবেক দেবরায়। 

এ দিন কৃষি ঋণ মকুব প্রসঙ্গে দেশাইয়ের দাবি, ‘‘এতে কৃষির তেমন উন্নতি হবে না। বরং আর্থিক ব্যবস্থার ক্ষতি হবে।’’