ন্যাশনাল টেক্সটাইল কর্পোরেশন (এনটিসি)-এর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর কলকাতা থেকে মুম্বইয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থার তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন এই অভিযোগ এনেছে। তবে এনটিসি কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, এখন থেকে পূর্বাঞ্চলের দফতরটি পরিচালনা করবে মুম্বইয়ে সংস্থার মূল সদর দফতর। কলকতার দফতর সরানো হবে না। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য কলকাতার দফতর থেকে কাউকে মুম্বইয়ে বদলি করারও প্রয়োজন হবে না। সম্প্রতি এনটিসি কর্তৃপক্ষের দিল্লির দফতর থেকে জারি হওয়া একটি সার্কুলারে এ কথা বলা হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছে না তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস পরিচালিত এনটিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারকে চিঠি লিখেছেন।
পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এনটিসির ডিরেক্টর অলকেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সুবিধার জন্যই দেশ জুড়ে এনটিসির পরিচালন ব্যবস্থা ঢালা সাজা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কলকতায় সংস্থার পূর্বাঞ্চল দফতর আগের মতোই কাজ করবে। তবে ওই দফতরের কর্তারা এখন থেকে মুম্বই দফতরে ‘রিপোর্ট’ করবেন।’’
তবে এনটিসি কর্তৃপক্ষ আসল তথ্য গোপন করতে চাইছেন বলে অভিয়োগ করে সংস্থার তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ মজুমদার বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের সদর সরিয়ে নেওয়াই কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য। তার প্রথম ধাপ হিসেবেই ওই সার্কুলার।’’ ইউনিয়নের অভিযোগ, বছর পাঁচেক ধরেই এনটিসির পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ১৪টি-সহ পূর্বাঞ্চলে এনটিসির মোট ১৮টি মিল ছিল। এখন ঠেকেছে মাত্র ৭টিতে। এর মধ্যে রাজ্যে রয়েছে ৪টি। বিহার, ওড়িশা এবং অসমে একটি করে মিল রয়েছে। তবে ওই ৭টির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দাসনগরে আরতি কটন মিল ছাড়া বাকি ৬টি মিলেই কোনও উৎপাদন হচ্ছে না। লোকসানে চলা আরতি মিলে দিনে ৫ কেজির মতো সুতো তৈরি হয়। তবে তা উঁচু মানের।
এ দিকে পশ্চিমাঞ্চলেও যে ৯টি মিল রয়েছে, তার ৬টি লোকসানে চলছে। শুধু মুম্বইয়ের তিনটি মিলে মুনাফা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসার খাতিরে কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের দফতর সরিয়ে নেওয়ার যুক্তি মানতে নারাজ ইউনিয়ন। অবশ্য ব্যবসার স্বার্থে পূর্বাঞ্চলের দফতর মুম্বইয়ে সরানো হচ্ছে, এ কথা এনটিসি কর্তৃপক্ষও বলেননি। পরিচালনার সুবিধাই নতুন ওই ব্যবস্থা চালু করার কারণ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।