আমেরিকায় ঝাঁপ বন্ধ করা সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্কে বা এসভিবি-র সঙ্গে ভারতের নতুন উদ্যোগ (স্টার্ট আপ) সংস্থাগুলির গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ব্যাঙ্কটি দেউলিয়া হওয়ার জের তাদের উপরে পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের স্টার্ট আপ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরের সপ্তাহে আলোচনায় বসার কথা জানালেন বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর। এ দিকে, এই প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, তা প্রতিটি সংস্থার বিচারে খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং ইনফোসিসের প্রাক্তন ডিরেক্টর মোহনদাস পাই। স্টার্ট আপগুলির পুঁজি জোগাড়ের পথ সহজ করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককেও।
আমেরিকার প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ৪০% সংস্থা তো বটেই, সে দেশে পরিষেবা দানকারী ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা ও মূলত স্টার্ট আপে লগ্নিকারী ওয়াই কম্বিনেটরের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিরও অ্যাকাউন্ট রয়েছে এসভিবি-তে। গত শুক্রবার ভারতীয় সময় গভীর রাতে ক্যালিফর্নিয়ার ব্যাঙ্কিং নিয়ন্ত্রকের হয়ে সেই ব্যাঙ্কেরই সব সম্পদ ও আমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অনেকে বলছেন, এর প্রভাব ভারতের স্টার্ট আপকে স্তব্ধ করতে পারে। কারও আবার মত, ততটা প্রভাব পড়বে না।
এই প্রসঙ্গে পাইয়ের বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় ভারতে ব্যবসা হলেও বিদেশি লগ্নিকারীরা তহবিল জোগানোর শর্ত হিসেবে দেশের বাইরে স্টার্ট আপগুলিকে নথিভুক্ত হতে বলে। বলা হয় বিদেশে অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও। তাঁর পরামর্শ, শুধু লগ্নি পেতে যেন এই পথে না-হাঁটে স্টার্ট আপগুলি। ভারতের ব্যাঙ্কিং শিল্প ভালভাবে নিয়ন্ত্রিত। বরং রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক দেশেই তাদের পুঁজি জোগাড়ের পথ সহজ করুক। স্টেট ব্যাঙ্কের মতো অন্যেরাও স্টার্ট আপের জন্য শাখা খুলুক।
আমেরিকার প্রশাসনকে পাঠানো চিঠিতে ওয়াই কম্বিনেটরের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার ৩৫০০ সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও-র দাবি, ৩০ দিনের মধ্যে বহু স্টার্ট আপের তহবিল ফুরোবে। ফলে কর্মীদের বেতন দেওয়ায় সমস্যা হবে। সঙ্কটে পড়তে পারে প্রায় ১০,০০০ নতুন উদ্যোগ ও ১ লক্ষ কাজ। তাই দ্রুত সংস্থাগুলিকে রক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। যদিও মানুষের করের টাকায় যে এসভিবি-কে অর্থ জোগানো হবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আমেরিকার অর্থসচিব জ্যানেট ইয়ালেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)