এক সময় ভারত পরিচিত ছিল ছোট (হ্যাচব্যাক) ও মাঝারি (সেডান) গাড়ির বাজার হিসেবে। কিন্তু গত ক’বছরে তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকেছে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্‌ল (এসইউইভি) বা কেজো গাড়ির দিকে। এতটাই যে, এ বছর গাড়ি বাজারে যাত্রীগাড়ির দখল যতটা কমেছে (প্রায় ৩%), ততটাই বেড়েছে এসইউভি-র। বিশেষত চার মিটারের ছোট (কমপ্যাক্ট) এসইউভি-র চাহিদা বাড়ছে দ্রুত। তাই সংস্থাগুলিও ব্যবসা বাড়াতে এই ধরনের মডেল নিয়েই ঝাঁপাচ্ছে। ফলে এই বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে চলেছে বলে দাবি গাড়ি শিল্পের।

শিল্পমহল বলছে, এসইউভি-র ঝকঝকে চেহারা, দক্ষতা ও সব রাস্তায় সাবলীল ভাবে চলার বৈশিষ্ট্য অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় প্রজন্মকে টানছে। ছোট এসইউভি-র টান আরও বেশি। কারণ, ৪ মিটারের কম হওয়ায় সেগুলির উপর উৎপাদন শুল্ক চাপে কম। ফলে কম হয় দাম। ফলে মেলবন্ধন ঘটে এসইউভি কেনার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে। আর সে জন্যই মাসে বিক্রি হওয়া ৪০-৫০ হাজার এসইউভির মধ্যে ছোটগুলির অংশীদারি প্রায় ৫০%। ফলে সেই বাজার ধরতেই এগোচ্ছে ফোর্ডের ইকোস্পোর্ট, মহীন্দ্রার টিইউভি-৩০০, কেইউভি-১০০, মারুতির ব্রেজা, হোন্ডার ডব্লিউ-আরভি।

নেক্সন নিয়ে আগামী সপ্তাহে প্রথম এই বাজারে পা রাখবে টাটা মোটরস। কেজো গাড়ির ক্ষেত্রে সপ্তম থেকে তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে পৌঁছতে এটি বড় ভুমিকা নেবে বলে আশা সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট (যাত্রীগাড়ি বিক্রি) এস এন বর্মনের। বিপণন বিভাগের প্রধান (যাত্রীগাড়ি) বিবেক শ্রীবৎস জানান, তাতে গিয়ার-হীন প্রযুক্তি (এএমটি) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্য দিকে, ফোর্ড ইন্ডিয়ার মুখপাত্রের দাবি, বছর শেষে আসবে ইকোস্পোর্টের নতুন সংস্করণ। সূত্রের খবর, মহীন্দ্রাও টিইউভি-৩০০ এবং কেইউভি-১০০ গাড়ি দু’টির নতুন সংস্করণ আনতে পারে আগামী বছরে।

ছোট এসইউভির বাজারে শীর্ষে মারুতির ব্রেজা। সংস্থা-কর্তা আর এস কলসীর দাবি, গ্রাহকের চাহিদা পূরণ হওয়াতেই এতটা সাড়া মিলেছে।