বিকল্প শক্তির উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন জেলায় মোট ১২০ মেগাওয়াটের নতুন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। আগামী অর্থবর্ষ (২০১৯-২০) থেকে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত কাজ শুরু হবে। ঠিক হয়েছে প্রতিটি প্রকল্পই সরকারি পতিত জমিতে গড়া হবে। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রের খবর, ৬-১০ মেগাওয়াটের প্রকল্পগুলি রাজ্য মন্ত্রিসভার সায়ের জন্য পাঠানো হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, কোচবিহার, বীরভূমের মতো জেলায় সরকারি জমিতে ১১০ মেগাওয়াটের প্রকল্প গড়া হবে। এক মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়তে কমপক্ষে চার একর জমি লাগে। বিভিন্ন জেলায় ১০ মেগাওয়াটের প্রকল্পগুলির জন্য ৩০-৪০ একর করে জমি লাগবে। চাষ হয় না আবার শিল্পের কাজেও আসবে না এমন সরকারি পতিত জমিই খোঁজা হবে।

দার্জিলিঙেও তিন মেগাওয়াটের প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছে। বাকি ১০ মেগাওয়াট উত্তর দিনাজপুরে তিস্তা নদী থেকে বেরিয়ে আসা নালার উপর লোহার খাঁচা তৈরি করে নির্মাণ হবে। যাকে ‘ক্যানাল টপ’ বলা হচ্ছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ কর্তাদের একাংশের দাবি, নদীর উপরে লোহার খাঁচা বানিয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ সম্ভবত দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ শক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা।

তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ও বিকল্প শক্তি মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিলেছে। ঠিক হয়েছে প্রকল্প রূপায়ণ করবে রাজ্য। পরিচালনার দায়িত্ব রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নাবার্ডের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ নেওয়া হবে। সুদে-আসলে যার অর্থ মেটানোর দায় রাজ্য নেবে বলে খবর। ১০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প গড়তে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যে বিদ্যুৎ লাইনে (গ্রিডে) যেমন বিকল্প শক্তির উৎস বাড়বে, তেমনই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো যাবে।