দেশে বেকারত্বের হার আগের থেকে কমল। কিন্তু পাঁচ শতাংশের নীচে নামল না। উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে শহরে পৌঁছল ৭ শতাংশের আরও কাছে।
সোমবার পরিসংখ্যান মন্ত্রক জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সি নাগরিকদের মধ্যে বেকারত্ব দাঁড়িয়েছে ৫.২%। এপ্রিল-জুনে ছিল ৫.৪%। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, মাসের হিসেবেও বেকারত্ব পাঁচ শতাংশের উপরে মাস ছয়েক ধরে। সেপ্টেম্বরে ছিল ৫.২%। ফলে কাজের বাজার নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই। বিশেষত শহরে বেকারত্ব যেহেতু এখনও চড়া। মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী আলোচ্য তিন মাসে তা সামান্য হলেও আগের তিন মাসের থেকে বেড়েছে। এপ্রিল-জুনে ছিল ৬.৮%। জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৬.৯%।
সরকারি পরিসংখ্যানে অবশ্য দাবি, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বেকারত্বের হার কমেছে মূলত গ্রামে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায়। কারণ, ওই তিন মাস ছিল চাষের মরসুম। তাই গ্রামে বেকারত্বও তার আগের ত্রৈমাসিকের ৪.৮ শতাংশের তুলনায় কমে হয়েছে ৪.৪%। গ্রামীণ কর্মীদের মধ্যে কৃষিকাজে নিযুক্তদের হার ৫৩.৫% থেকে পৌঁছেছে ৫৭.৭ শতাংশে। কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৩৩.৪% থেকে হয়েছে ৩৩.৭%। একেও বেকারত্বের মাথা নামানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দাবি করছে সরকারি মহল।
তবে অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীর মতে, বেকারত্ব এখনও ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে মানে, কর্মসংস্থানে আশানুরূপ সাফল্য মেলেনি। তাঁর কথায়, ‘‘ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা এখনও বহাল। আমেরিকা চড়া আমদানি শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। এ সবের ফলে মার খাচ্ছে রফতানি। তার জেরে দেশে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রচুর মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। দেশে চাহিদা মাথা তুললে হয়তো এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। কিন্তু জিএসটি কমার সুবিধা নিয়ে সব ক্ষেত্রে চাহিদার ফুলেফেঁপে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে কর্মসংস্থান আশানুরূপ হারে বাড়ছে না এখনও।’’ অজিতাভ অবশ্য বেকারত্বের আরও মাথা না নামানোর জন্য প্রযুক্তিকেও কিছুটা দায়ী করছেন। বলেছেন, ‘‘বেশ কিছু শিল্প তাদের কারখানায় কৃত্রিম মেধার মতো প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে। তাতে এককালীন খরচ হয়তো বেশি পড়ে। কিন্তু কর্মীদের মাইনে দেওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি এবং দৈনন্দিন খরচ কমানো যায়। এটা বেকারত্বকে একটা মাত্রার নীচে নামতে দিচ্ছে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)