আগামী সোমবার নয়াদিল্লি আসছেন আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। মঙ্গল এবং বুধবার ভারতীয় কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। ভারতের সঙ্গে আমেরিকার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। তার মাত্র চার দিন আগে, কাল রাতে ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বঁ-তে হওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জি৭-এর পার্শ্ববৈঠকটি এ ক্ষেত্রে অনেকটাই অক্সিজেন জোগাল বলে মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।
ভারতীয় সময় আজ ভোরে যে বিবৃতিটি বিদেশ মন্ত্রক প্রকাশ করেছে, ওই বৈঠক নিয়ে তাতে বলা হয়েছে, ‘অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণ নিয়ে যে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, সেটি বিশেষ সন্তোষের সঙ্গে নেতারা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভারসাম্যযুক্ত, উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর এবং বাণিজ্যিক ভাবে অর্থবহ চুক্তি অতি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।’ আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি যে আগামী সপ্তাহে ভারতে আসছেন, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই বিবৃতিতে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মোদী এবং ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের শেষ বৈঠকের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত-আমেরিকা ‘কমপ্যাক্ট’ (ক্যাটালাইজ়িং অপরচুনিটিজ় ফর মিলিটারি পার্টনারশিপ, অ্যাকসেলেরেটেড কমার্স অ্যান্ড টেকনোলজি)-এর ক্ষেত্রে কতটা অগ্রসর হওয়া গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখেছেন। প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেনদুই নেতা।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে প্যারিস থেকে ফিরেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর দৌড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে। আমেরিকা এবং ভারতের নিরাপত্তা-সম্পর্ক জোরদার করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে দু’পক্ষের। সরকারের এক এবং দু’নম্বর, যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের সঙ্গে তোলা ছবি (ফ্রান্স এবং ভারতে) পরপর আজ পোস্ট করেছেন গোর। শাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নিরাপত্তা, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন ও মাদক-বিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ অন্য দিকে গোর জানিয়েছেন, ‘মাদক এবং সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষিত করা ও উভয় রাষ্ট্রে যৌথ ভাবে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতের কোনও এক সময়ে’ ভারত সফরে আসবেন তিনি। ভারত কয়েক মাস ধরে নয়াদিল্লিতে কোয়াড (চতুর্দেশীয় অক্ষ) শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের জন্য বার্তা পাঠাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষণা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ বলে মনে করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ঘটনা হল, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন না হলে ট্রাম্পের ভারত সফরের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাই কোয়াড-এর আগেই চুক্তি হয়ে যাক, এমন চাপ নয়াদিল্লির দিক থেকে রয়েছে। তবে নয়াদিল্লি-সূত্র বলছে, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও চুক্তি করা হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)