কলকাতার মেট্রো চড়ার সাধ পূরণ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের এক বাসিন্দা। তাঁর বাকি ন’জন সঙ্গী নেমে গেলেও তিনি বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে নামতে পারেননি। মধ্যরাতে উল্টোডাঙা থানার দ্বারস্থ হন তাঁর সঙ্গীরা। শেষে মেট্রো স্টেশন ও শহরের ৩০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে থয় নোসিং মারমা নামে বছর পঁয়ষট্টির ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার তাঁকে সঙ্গীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। 

সম্প্রতি আগরপাড়ার একটি হোটেলে উঠেছিলেন ৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগে শনিবার কলকাতার মেট্রো চড়বেন বলে বেরিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ১০ জন। দমদম থেকে মেট্রোয় উঠে বেলগাছিয়ায় নেমে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে ন’জন নামলেও মারমা নামতে পারেননি। সারা দিন তাঁকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মেট্রো পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁর সঙ্গীরা। মেট্রো পুলিশ তাঁদের দমদম রেল পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে বলে।

ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে এক জনের কথায়, ‘‘দমদমের রেল পুলিশ আমাদের সিঁথি থানায় চলে যেতে বলে। সেখানে গেলে বলা হয়, আমরা বেলগাছিয়ার মেট্রো স্টেশনে নেমেছিলাম। সেটা উল্টোডাঙা থানার মধ্যে পড়ে।’’ এতগুলি জায়গা ঘুরে শেষে শনিবার রাত দেড়টা নাগাদ উল্টোডাঙা থানায় হাজির হন মারমার সঙ্গীরা।

উল্টোডাঙা থানা সূত্রের খবর, নিখোঁজ ডায়েরি করে ওই ব্যক্তির ছবি সব থানায় পাঠানো হয়। মেট্রো রেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি শ্যামবাজারে নেমেছিলেন। তবে সেখান থেকে তিনি কোথায় গিয়েছেন, তা জানা যাচ্ছিল না। পরে অন্য একটি ক্যামেরায় ওই ব্যক্তিকে বাসে উঠতে দেখা যায়। ওই বাসের ছবি মিলিয়ে শেষে সূত্র মারফত খবর আসে, শনিবারই মধ্যমগ্রামে বৌদ্ধদের একটি মন্দিরে গিয়ে উঠেছেন এক ব্যক্তি। রবিবার রাতে উল্টোডাঙা থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে, ওই ব্যক্তিই মারমা।

মারমা বলেন, ‘‘কলকাতার রাস্তা চিনতে পারছিলাম না। আমার সঙ্গে ফোনও ছিল না। টাকাও বন্ধুদের ব্যাগে ছিল। আমরা বৌদ্ধ, তাই লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে এখানকার কোনও বৌদ্ধমঠে গিয়ে থাকব ঠিক করি। এক ব্যক্তি ভাড়া হাতে দিয়ে বাসে তুলে দেন। বাস থেকে নেমে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে মন্দিরে পৌঁছই।’’