চলতি মাসের তিন দিন, ২৩ থেকে ২৫ তারিখ হাওড়ার বঙ্কিম সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেরামতির কাজ হবে বলে জানিয়ে দিল হাওড়া সিটি পুলিশ। তবে এর জন্য সেতুটি পুরো বন্ধ করা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেতু অংশত বন্ধ রেখে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যানবাহন চালানো হবে। যদিও তাতে ভোগান্তি কতটা কমবে, তা নিয়ে সন্দিহান নিত্যযাত্রীদের একাংশ। হাওড়া সিটি পুলিশের অবশ্য দাবি, বিকল্প পথ খোলা রাখায় তেমন সমস্যা হবে না। তা ছাড়া আগামী ২৩ তারিখ, শুক্রবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি। পরের দু’দিন এমনিই সরকারি অফিস বন্ধ থাকে। ফলে সেতুর কাজ চলাকালীন ওই তিন দিন যানবাহনও কম চলবে।

প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো বঙ্কিম সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেরামতি নিয়ে মঙ্গলবার হাওড়ার পুলিশ কমিশনারের অফিসে বৈঠক হয় কেএমডিএ, হাওড়া পুরসভা ও হাওড়া ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের। ছিলেন হাওড়ার আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিকও। বৈঠকের পরে ডিসি (ট্র্যাফিক) ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ‘‘সেতুটি অংশত বন্ধ রেখে তিনটি বিকল্প পথে গাড়ি চালানো হবে। চাঁদমারি সেতু দিয়ে বেশি গাড়ি চলবে। যানজট ঠেকাতে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী থাকবেন। আশা করা যাচ্ছে, খুব সমস্যা হবে না।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, বঙ্কিম সেতুর যে অংশটি হাওড়া স্টেশনের দিক থেকে উঠে মূল সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সেই অংশটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে শিবপুরমুখী সব গাড়ি হাওড়া স্টেশনের পাশ দিয়ে গিয়ে গ্র্যান্ড ফোরশোর রোড ধরবে। যে সব গাড়ি কলকাতা থেকে উত্তর হাওড়া ও বালির দিকে যাবে, সেগুলিকে সব্জিবাজারের পাশ দিয়ে গিয়ে আই সি বসু রোড হয়ে হরিমোহন বসু রোড ধরতে হবে। অন্য দিকে হাওড়া ময়দান, পঞ্চাননতলা রোড বা ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস দিয়ে আসা গাড়ি ওই একই রাস্তা ধরে এসে চাঁদমারি সেতুতে উঠবে।

এ দিনের বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, হাওড়া ময়দানের দিকে আসা গাড়ি বা বাস চাঁদমারি সেতু দিয়ে এসে মহাত্মা গাঁধী রোড ধরে হাওড়া ময়দানে যেখানে মেট্রোর কাজ হচ্ছে, সেই রাস্তা দিয়ে বঙ্গবাসীর কাছে এসে বঙ্কিম সেতুর ডান দিকের অংশ ধরে মূল সেতুতে উঠবে। ডিসি (ট্র্যাফিক) জানান, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজের জন্য এত দিন হাওড়া ময়দানের ওই রাস্তাটি বন্ধ ছিল। সেটি খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে যেহেতু বঙ্কিম সেতুর বাঁ দিকের রাস্তা বন্ধ থাকবে, সেই কারণে কলকাতামুখী সব যানবাহনকে ডান দিকের রাস্তা ধরে সেতুতে ওঠার পরে কিছু দূর গিয়ে একটি ‘কাট আউট’ থেকে ঘুরে (ইউ টার্ন) ফের বাঁ দিকের রাস্তা ধরতে হবে।

ডিসি (ট্র্যাফিক) বলেন, ‘‘এর আগেও বঙ্কিম সেতু বন্ধ থাকার সময়ে এই তিনটি বিকল্প পথ দিয়ে যানবাহন চালানো হয়েছে। সমস্যা হয়নি।’’ এ দিন বৈঠকের পরে পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মার নেতৃত্বে ট্র্যাফিকের পদস্থ কর্তারা তিনটি বিকল্প পথ ঘুরে দেখেন। পরে কমিশনার জানান, যে সব রাস্তার অবস্থা খারাপ, সেগুলি সারাই করার জন্য পুরসভাকে বলা হয়েছে। বঙ্গবাসী মোড়ে ট্র্যাফিকের সমস্যা মেটাতে কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বঙ্কিম সেতুর উপরে বাস দাঁড়ানোও বন্ধ করা হবে।