বিকেল সাড়ে তিনটের সময় নিজের দফতরে ঢুকেই চোখ কপালে উঠেছিল উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের। তাঁর টেবিলে রাখা সুতলি বলের মতো একটি বস্তু। দেখে ওই অফিসারের মনে হয়, সেটি বোমা। পুলিশে বিষয়টি জানান তিনি। খবর যায় বম্ব স্কোয়াডেও।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের তিন তলায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অফিসে এই ঘটনার জেরে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। পরে অবশ্য ওই বস্তুটিকে অন্যত্র নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি আদতে কাগজের পুঁটলি, তার উপরে সরু-মোটা পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা।

এই ঘটনায় সল্টলেকের সরকারি ভবনগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ, অফিসগুলিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সর্বত্র সিসিটিভি, রেজিস্টারে নাম নথিবদ্ধ করার ব্যবস্থা নেই। তাঁদের আরও অভিযোগ, এ দিনের জিনিসটি বোমা না হলেও বিষয়টি হেলাফেলার নয়। অফিসগুলিতে নজরদারির কী অবস্থা, সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই ঘটনা।

পুলিশের অবশ্য দাবি, সল্টলেকের অফিসগুলিতে নজরদারি জোরদার করতে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সে সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেওয়া আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।

এ দিন ঠিক কি ঘটেছিল? বিকাশ ভবনের নর্থ ব্লকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে নিজের দফতরে ছিলেন উপ-সচিব বাদল ভট্টাচার্য। তিনি জানান, দুপুর দেড়টা নাগাদ করুণাময়ী মোড়ে সংসদের সদর দফতরে বৈঠকে গিয়েছিলেন। ৩টের পরে বিকাশ ভবনে নিজের ঘরে ঢুকে চৌকো সুতলি বান্ডিলটি পড়ে থাকতে দেখেন। বোমা সন্দেহ হওয়ায় বাদলবাবুই বিষয়টি জানান পুলিশকে।

বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা এসে সুতলি বান্ডিলটি দড়ি দিয়ে বেঁধে একতলায় নামান। সেখানে বালতিতে জলের মধ্যে রেখে জিনিসটিকে নিয়ে যাওয়া হয় নিউ টাউনে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি বোমা নয়। কাগজের পুঁটলি কিছু পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা।

বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার জাভেদ শামিম জানান, উদ্ধার হওয়া জিনিসটি আসলে কাগজের পুঁটলি, যেটি সুতলি দিয়ে মোড়া ছিল। কমিশনার জানান, কে বা কারা ওই জিনিসটি উপসচিবের ঘরে রেখে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিন ঘটনাটি জানাজানি হতেই সরকারি কর্মচারীরা ভিড় করেন সংসদের অফিসে। একাধিক কর্মীর বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ নিয়ে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। ফলে কারা দফতরে যাতায়াত করছেন, তা নজরদারি করার অবস্থা নেই। এখানেই কর্মীদের প্রশ্ন, কেউ বিস্ফোরক রেখে গেলেও দেখার কেউ নেই। অথচ বিকাশ ভবনে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকেন।

তবে এই ঘটনায় শুধু বিকাশ ভবনই নয়, জলসম্পদ ভবন ছাড়া সল্টলেকের সরকারি অফিসগুলিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সরকারী কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করা চলবে না। নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও মজবুত করতে হবে।’’

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস বলেন, ‘‘সংসদ ভবনে সর্বত্র সিসিটিভি আছে। বিকাশ ভবনের কোথায় কী আছে, তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বম্ব স্কোয়াড জিনিসটি উদ্ধার করেছে। ওরাই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’’