উপচে পড়া ভিড় এবং পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা গাড়ি, তার জেরে তৃতীয়ার রাতেই ভিআইপি রোডের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছিল। বিমানবন্দর থেকে উল্টোডাঙা মোড় কিংবা ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে যেতে বহু সময় লেগেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন যাত্রীরা। চতুর্থীতেও কার্যত ছবিটা একই রকমই রইল।

শুধু এ বারই নয়। গত বছরেও ভিআইপি রোডে একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে বিধাননগর পুলিশের দাবি, এ বার তৃতীয়া থেকেই বাহিনী নামিয়ে পরিকল্পিত ভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে বুধবার দুপুরেও গোলাঘাটা থেকে লেক টাউন পার করতে কমবেশি আধঘণ্টা সময় লেগেছে বলেই দাবি যাত্রীদের।

ভিআইপি রোডের মতো না হলেও চাপ বাড়ছে বিশ্ববাংলা সরণি এবং সল্টলেকের কিছু রাস্তায়। সল্টলেকের প্রবেশপথ থেকে পিএনবি মোড়, বাইপাস থেকে সিএ আইল্যন্ড মোড়-সহ কিছু জায়গায় গাড়ির চাপ ক্রমশ বাড়ছে। গাড়ির গতিও শ্লথ হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার থেকেই পরিকল্পনা অনুসারে ভিআইপি রোড এবং যশোর রোডের সংযোগকারী রাস্তা থেকে শুরু করে বিধাননগর কমিশনারেটের প্রতিটি থানা এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে লেক টাউন এলাকায় গাড়ির গতি বেশি শ্লথ হচ্ছে বলেই খবর।

বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানায়, বুধবার থেকে নতুন পরিকল্পনা কার্যকরী হচ্ছে। সেই মতো প্রতিদিন দুপুর তিনটে থেকে পর দিন ভোর ৬টা পর্যন্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। লেক টাউন মোড় থেকে যশোর রোড মোড়ের মধ্যে একমুখী ভাবে গাড়ি চলাচল করবে। ভিআইপি রোডে তিনটি ফুটব্রিজ শুধু স্থানীয় আবাসিকেরা ব্যবহার করতে পারবেন। লেক টাউন এলাকায় কয়েকটি বাসশেল্টারও দুপুর থেকে পর দিন ভোর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়ি ছাড়া দর্শকদের কলকাতার দিকে যেতে চিনার পার্ক, হলদিরাম ক্রসিং থেকে নিউ টাউনের রাস্তা ধরার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। দুপুর থেকে পরের দিন ভোর পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এ দিকে লেক টাউন এবং সল্টলেকের মধ্যে নতুন বেলি ব্রিজ চালু হয়েছে। কিন্তু এ ই ব্লকের একটি পুজোতেও ভিড় হচ্ছে। তার ফলে রাতের দিকে ওই এলাকায় যানজট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। যান নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হলেও শ্রীভূমি-সহ বেশ কয়েকটি পুজোয় ভিড় বাড়তে শুরু করায় গাড়ির গতি শ্লথ হচ্ছে। তাতে চিন্তাও বাড়ছে পুলিশের।