ডেঙ্গির চিকিৎসা পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে কি না, তা দেখতে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গড়েছে স্বাস্থ্য দফতর। জরুরি পরিষেবার মেজাজ ধরে রাখতে পর্যবেক্ষক দলের গাড়িতে লাগানো হয়েছে নীল বাতি। অথচ স্বাস্থ্য ভবন থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসক ঘাটতির জেরে পরিষেবায় ‘লাল বাতি’ জ্বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গি মোকাবিলায় এই দুই বিপরীত ছবির জন্যই স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে নতুন রসিকতা, ‘নীলে লাল’!

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, সিনিয়র রেসিডেন্ট, মেডিক্যাল অফিসার মিলিয়ে মোট অনুমোদিত চিকিৎসক পদ ৫৭। এর মধ্যে প্রফেসর এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে যেখানে ছ’জন করে ১২ জন চিকিৎসকের থাকার কথা, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ওই দু’টি পদে চিকিৎসক শূন্য। অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে তিন জন ছিলেন। তাঁদের নেতৃত্বে তিনটি ইউনিট থেকে রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন। সম্প্রতি এক জন চিকিৎসক কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিয়োলজি বিভাগে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বদলির নির্দেশিকাও বার হয়ে গিয়েছে। আরও এক জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে যিনি কাজ চালাতে পারতেন, সেই সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে চিকিৎসক মাত্র এক। কিন্তু তিনিও দ্রুত নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে চলে যাবেন। হাসপাতালে কর্মরত দু’জন মেডিক্যাল অফিসারকেও উচ্চশিক্ষার জন্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

বস্তুত, এ দিনই পর্যবেক্ষক দল বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীরা কেমন পরিষেবা পাচ্ছেন, তা নজরদারি করতে যায়। সেখানে রোগীর ‘ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট’-এ আরও তৎপরতার প্রয়োজন রয়েছে বলে নিজেদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক ঘাটতির বিষয়ে তাঁরাও অবহিত হয়েছেন বলে খবর। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের তরফে স্বাস্থ্য ভবনেও সমস্যার কথা আলাদা করে জানানো হয়েছে।

এখনও ডেঙ্গির প্রকোপ সে ভাবে দেখা যায়নি। তবে একটানা বৃষ্টি শুরু হলে ছবিটা বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, আইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখনই দৈনিক গড়ে ৫০ জন জ্বরে আক্রান্ত রোগী সেখানে ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি, ৭৮০ শয্যার হাসপাতালে অন্য রোগের রোগীদেরও চাপ রয়েছে। সেই তালিকায় ডায়াবিটিস ক্লিনিক যেমন আছে, তেমনই রয়েছে সোয়াইন ফ্লু, জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ক্লিনিক, হাম, গুটিবসন্ত, ডিপথেরিয়া, ডায়রিয়ার মতো রোগীরা।

চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, ‘ডেঙ্গি প্রোটোকল ম্যানেজমেন্ট’ মেনে চিকিৎসা করতে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা আবশ্যক। মাত্র এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার চিকিৎসক দিয়ে কী ভাবে তা সম্ভব? চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একটি সচল রাখাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

তবে চিকিৎসক সঙ্কটের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের অধ্যক্ষা অণিমা হালদার। তিনি বলেন, ‘‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কোনও কথা বলব না। যদি সত্যিই সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তা স্বাস্থ্য ভবনকে বলব।’’