রেষারেষি করতে করতে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল একই রুটের দু’টি বাস। এক প্রৌঢ় দু’টি বাসের মধ্যে পড়ে যান। তাঁর উপর দিয়ে চলে যায় বাসের চাকা।

সম্প্রতি আর একটি ক্ষেত্রে রাস্তা পার হচ্ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপক। অভিযোগ, রেষারেষি করতে গিয়ে একটি বেসরকারি বাস ধাক্কা মারে তাঁকে। পড়ে গেলে ওই রুটের অন্য বাসটি তাঁর বাঁ হাত থেঁতলে দেয়।

উপরের দু’টি চিত্র কলকাতার দুই প্রান্তের। পুলিশ সূত্রের খবর, শহরের রাস্তায় পরিচিত এই ছবিটা বদলাতে এ বার সচেষ্ট হয়েছেন নতুন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ ব্যাপারে নতুন কিছু ভাবার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো বাসের রেষারেষি বা গাড়ির বেপরোয়া গতি ঠেকাতে সাময়িক ভাবে চালকের লাইসেন্স বাতিল করার উপরে জোর দিতে চাইছেন ট্র্যাফিকের আধিকারিকেরা। একই সঙ্গে ‘বাস লেন’-এর বাইরে চালকেরা গেলে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে শহরে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। কমেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। লালবাজারের একাংশের দাবি, দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বাসের বেপরোয়া গতি এবং রেষারেষি। বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘শহরের রাস্তায় বাসের রেষারেষির কথা অজানা নয়। ট্র্যাফিকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ওই রেষারেষি কী ভাবে কমানো যায়, তা ভাবতে বলেছেন কমিশনার।’’

ট্র্যাফিক পুলিশ সূত্রের খবর, রেষারেষি কমাতে বেপরোয়া চালকের লাইসেন্স বাতিলের উপরে জোর দিতে চান বিভিন্ন ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিকেরা। একই ভাবে বাস লেন অমান্য করলেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বেপরোয়া গতি রুখতে রাতের মতো দিনের বেলাতেও ইএম বাইপাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গার্ড রেল বসাতে চাইছেন পুলিশকর্তারা। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানোরও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। পুলিশের এক কর্তা জানান, দুর্ঘটনা ঠেকাতে চালকের লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় পথচারীদের অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াতও আটকানো হবে।