হেলমেট না পরার জন্য একশো টাকা জরিমানা করে থাকে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু সেই টাকা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন হেলমেট না পরায় সম্প্রতি অভিযুক্ত এক যুবক! শনিবার, কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোয় অভিযুক্তদের ২১০ জনকে নিয়ে কলকাতা পুলিশ প্রথম কর্মশালা আয়োজন করেছিল। সেখানেই শোনা গেল এমন মন্তব্য।

ট্র্যাফিক নিয়ম না মানার ভয়ঙ্কর পরিণতি কী হতে পারে, তা এ দিন পর্দায় দেখানো হয়। শহরের রাস্তার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনার ছবি দেখে কর্মশালায় উপস্থিত অধিকাংশ বাইকচালক বলেন, ‘‘একের পর এক মোটরবাইক দুর্ঘটনার ছবি দেখে আতঙ্ক হচ্ছে। এ বার হেলমেট অবশ্যই পরব। পাশাপাশি, নিজের চেনা-পরিচিতদেরও সচেতন করব।’’ কর্মশালার উদ্বোধন করতে এসে ডিসি (ট্র্যাফিক) সন্তোষ পাণ্ডে বলেন, ‘‘ট্র্যাফিক আইন যাঁরা ভাঙছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল আগেই। এ বার তাঁদের পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’’ 

শুক্রবার রাতেই পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা, এমবিএ পড়ুয়া শাদ আলমকে হেলমেট না পরার কারণে একশো টাকা জরিমানা করেছিল পুলিশ। এ দিনের কর্মশালায় উপস্থিত শাদ বলেন, ‘‘মোটরবাইক নিয়ে বাড়ির কাছেই এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, এটুকু পথে হেলমেটের প্রয়োজন নেই। আজ মনে হচ্ছে, হেলমেট ছাড়া মোটরবাইকে চড়ব না।’’ তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘হেলমেট না পরায় পুলিশ কেবল একশো টাকার জরিমানা করছে। এটা যথেষ্ট নয়। বিদেশের মতো আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন কলকাতা পুলিশের।’’ হেলমেট না পরায় শাদের বন্ধু হর্ষ সচদেবকেও দিন দু’য়েক আগে কেস দিয়েছিল পুলিশ। হর্ষের মতে, ‘‘এমন কর্মশালা প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডে আরও বেশি হওয়া দরকার। যা শুনে ডিসি (ট্র্যাফিক) বলেন, ‘‘আগামী দিনে এই ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজন করা হবে।’’ 

ট্র্যাফিক আইন মানার মতোই জরুরি বাইকচালকদের মনোযোগী হওয়া, জানালেন পুলিশ ট্র্যাফিক ট্রেনিং স্কুলের ওসি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। ট্রেনিং স্কুলের সার্জেন্ট রাজেশ ভাণ্ডারী এ দিন পর্দায় ছবির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্র্যাফিক সিগন্যালের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন।