ফের ধস শহরে। সোমবার রাতে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও মহাত্মা গাঁধী রোডের মোড়ে রাস্তা বসে যায়। নিকাশি দফতরের এক আধিকারিক জানান, যেখানে ধস নেমেছে সেখানে গঙ্গার জলের পাইপ লাইনে ফাটল ছিল। মঙ্গলবার বেলার দিকে অবশ্য রাস্তা মেরামতি শুরু হয়।

এক পুর-আধিকারিক জানান, গঙ্গার জলের পাইপের ফাটল মেরামতির জন্য নিকাশির পাইপ লাইনের একাংশ ভেঙে তা সারানো হচ্ছে। সোমবার রাত থেকেই মেরামতি শুরু করা হলেও ক্রমাগত জল বেরোনোয় কাজ শুরু করা যায়নি। গঙ্গার জলের লাইনের ফাটল ঠিক করার পরে নিকাশির পাইপ লাইন ঠিক করা হবে।

পুরসভা সুত্রে খবর, ধসের গভীরতা প্রায় পাঁচ ফুট। দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। এ দিন ঘটনাস্থলে যান বিভিন্ন পুর-আধিকারিকরা। পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, জলে রাস্তার নীচের মাটি আলগা হয়েই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়েরা জানান, রাস্তায় জল আসায় রবিবার থেকে কাজ চলছিল। সোমবার দেখা যায় সারানো অংশের ফাটল থেকে প্রচণ্ড জল বেরিয়ে রাস্তা বসে যাচ্ছে। পুরকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেন। স্থানীয়দের দাবি, ক’মাস আগে এর কিছু দূরেই ধস নেমেছিল।

পুরসভার ডিজি (জল সরবরাহ) বিভাস মাইতি জানান, শহরের অনেক জায়গায় গঙ্গার জলের পুরনো লাইন আছে। এই লাইনেই ফাটল ধরা পড়েছে। পানীয় জলের লাইনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। ইংরেজ আমলে মধ্য ও উত্তর কলকাতায় মল্লিকঘাট থেকে গঙ্গার জল পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হত।

শহরে বার বার ধস নামছে কেন? মেয়র পারিষদ (রাস্তা) রতন দে বলেন, ‘‘ধস নামলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামতি করা হয়। কিন্তু রাস্তা ভাল ভাবে সারাতে যে সময় দরকার তা পাওয়া যায় না। তাই ফের ধসের আশঙ্কা থেকেই যায়।’’ পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু জায়গায় ভূগর্ভস্থ পুরনো পাইপ পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বহু জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে। এতে ধসের সম্ভাবনা কমবে।